পর্যটকদের কাছে টানতে প্রস্তুত পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির ‘গাছঘর’। ইতিমধ্যেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই ‘কনসেপ্ট’। জঙ্গলের পাশে বিশাল ফাঁকা মাঠ। তার মাঝে কদম গাছের উপর তৈরি হয়েছে একটি অভিনব ঘর। খড়, কাঠ, বাঁশ ও পাতা দিয়ে তৈরি এই ‘গাছঘর।’ শীতের মরশুমে প্রকৃতির কোলে রোমাঞ্চকর রাত কাটানোর নেশায় তৈরি এই ‘গাছঘর’ এখন এক আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। এই ‘গাছঘরের’ টানে এখন শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি নয়, লাগোয়া খড়গপুর গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। এই ‘গাছঘরে’ একটি রুম রয়েছে। রয়েছে একটি সুদৃশ্য ব্যালকনি। যেখানে শোভা পাচ্ছে কিছু ফুলের গাছ।

আরও পড়ুন:

কেশিয়াড়ি থানার কুসুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুলালিয়া গ্রামের মাঠের মাঝে তৈরি হওয়া এই ‘গাছঘরকে’ কেন্দ্র করে এলাকাটি ছোটখাটো পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আর এই কাজটি করেছেন কেশিয়াড়ি থানার কুসুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেন্দুখুটা গ্রামের কয়েকজন যুবক। তার মধ্যে অন্যতম একজন হলেন দীপঙ্কর শী। তিনি বললেন, ‘‘প্রায় ন’দিনের প্রচেষ্টায় আমরা চারজন মিলে এই ‘গাছঘর’ তৈরি করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। আমরা অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থেকে এই ‘গাছঘর’ তৈরি করেছি। তার সঙ্গে ইতিমধ্যে কয়েকদিন রাতও কাটিয়েছি।’’

যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও পর্যটক রাত কাটানোর আবেদন করেননি। তবে রাতের নিস্তব্ধ জঙ্গলের পরিবেশ এবং গাছের উপর তৈরি করা ঘরে রাত্রিযাপনের অভিজ্ঞতা তাঁদের রীতিমতো রোমাঞ্চিত করেছে বলে দীপঙ্কর জানালেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, জমি থেকে ১৫ ফুট উঁচুতে তৈরি এই ‘গাছঘরে’ পৌঁছনোর জন্য দড়ি ও সরু কাঠ দিয়ে একটি ঝুলন্ত সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

কেন এই ঝুলন্ত সিঁড়ি? তার উত্তরে দীপঙ্কর বলেন, ‘‘ঝুলন্ত সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার রোমাঞ্চই আলাদা। একটি ট্রেকিংয়ের অনুভূতি পাওয়া যাবে।’’ সব মিলিয়ে দীপঙ্কর-সহ তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনের সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এই ‘গাছঘর’কে কেন্দ্র করে এলাকাটি ছোটখাটো একটি স্থায়ী পর্যটনস্থল হয়ে উঠতে পারে। দীপঙ্কর জানান, ‘‘বুদ্ধি দিয়ে ও কষ্ট করে তৈরি করা এই ‘গাছঘর’ রেখে দেওয়া হবে। ভাঙা হবে না।’’

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *