তৃণমূল কংগ্রেসের এক অধ্যায়ের ইতি। প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায় (Mukul Roy)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টা নাগাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্য়ুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। গভীর শূন্যস্থান তৈরি হল মুকুল রায়ের প্রয়াণে।

বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রাত দেড়টা নাগাদ প্রয়াত হন মুকুল রায়। তাঁর পরিবারের তরফেই এই খবর জানানো হয়েছে। তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় বলেন, “রাত দেড়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। বাবা অনেক লড়াইয়েই জিতেছিলেন, কিন্তু এই লড়াইয়ে হেরে গেলেন। আমি চলে আসার পর এটা হয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন হাসপাতালে যাচ্ছি। সকলের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।” তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে শোকবার্তা এসেছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কাউকেই জানাতে পারিনি, হয়তো কেউ জানেনই না যে বাবা আর নেই“।

তাঁকে বাংলার রাজনীতির চাণক্য বলা হত। এক সময়ে মুকুল রায়ের ব্যাপক দাপট ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি। দেশের রেলমন্ত্রী ও জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

তবে মন্ত্রী পরিচিতির থেকেও রাজনীতির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক সময়ে তাঁকে বঙ্গেশ্বর বলা হত। বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন ছিল মুকুল রায়ের। তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরই তাঁর কথা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তৃণমূলের সংগঠন তৈরি থেকে শুরু করে জমি আন্দোলনের সময়, পরিবর্তনের লড়াইতে গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক ছিলেন মুকুল রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ভাইফোঁটাও দিতেন তাঁকে। তৃণমূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

এরপরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। কৃষ্ণনগর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ীও হন। তারপরে ২০২১ সালে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে তখন সঙ্গ ছেড়ে দেয় শরীর। ধীরে ধীরে মূল মঞ্চ থেকে পর্দার আড়ালে চলে যান মুকুল রায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সম্প্রতিই তাঁর ছেলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করতে গিয়ে মুকুল রায়ের অসুস্থতা নিয়ে কথা জানিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের তরফেও তাঁর অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে, তাঁর বিধায়ক পদ রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *