ব্যাগ হাতে শুনানি কেন্দ্রে। আর সেই ব্যাগ মাটিতে ভর্তি। কিন্তু কীসের মাটি? জিজ্ঞাসা করতেই সাফ জবাব, “দাদুর কবরের মাটি।” মাটি পরীক্ষা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ টেস্ট করলেই নির্বাচন কমিশন সব কিছু জেনে নিতে পারবে! এমনই দাবি যুবকের। এসআইআরের শুনানি কেন্দ্রে দাদুর কবরের মাটি নিয়ে হাজির হয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন এক সংখ্যালঘু যুবক।

আরও পড়ুন:

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেই তাঁর এই অভিনব প্রতিবাদ, জানালেন নিজেই। সোমবার বেনজির এই ঘটনাটি ঘটে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে তাঁর দাবি, “দাদুর কবরের মাটি এনেছি, ব্যাগভর্তি মাটি। এটাই নাগরিকত্বের প্রমাণ।” হরিশ্চন্দ্রপুরের ওয়ারি দৌলতপুর এলাকার যুবক সালেকের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। সালেকের অভিযোগ, শুনানির জন্য তাঁদের গোটা পরিবারকে নোটিস ধরানো হয়েছে। কিন্তু কাগজপত্র সব আনার পরেও হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

দৌলতপুরের ওই যুবক জানান, তাঁরা যে ভারতের নাগরিক সেটা কোনও নথি দেখিয়েই নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি। তারপরেই দাদুর কবরে ছুটে যান সালেক। কবর থেকে মাটি নিয়ে এসে শুনানি কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখান তিনি। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলেও তরজা তুঙ্গে উঠেছে। এই ঘটনায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।

আরও পড়ুন:

ওয়ারি দৌলতপুর গ্রামের যুবক সালেক বলেন, “আমি চাই আমার দাদুর ডিএনএ টেস্ট করা হোক। আমাদের দাদু বাংলাদেশি, পাকিস্তানি না ভারতীয় তা এই মাটি টেস্ট করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।” ওই ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি জিয়াউর বলেন, “এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন যুবকরা নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করার জন্য দাদুর কবরের মাটি নিয়ে আসছেন। এটা বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের লজ্জা।” পালটা মালদহ জেলার বিজেপি নেতা কিষাণ কেডিয়া তৃণমূলের বিরুদ্ধেই তোপ দেগেছেন। ওই বিজেপি নেতা বলেন, “এসব করে তৃণমূল এসআইআর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।”

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *