এসআইআর শুনানিতে ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলেও সরব হয়েছে তৃণমূলImage Credit: TV9 Bangla

মালদহ: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছে তৃণমূল। কেন মাত্র ৩ মাসে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন যেমন তুলছে। তেমনই আচমকা এই প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগও তুলছে রাজ্যের শাসকদল। আর এই আবহে শাসকদলের রাজ্য সহ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য আগে থেকেই দলের বিএলএ ২-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা আগেই জানতেন তৃণমূল নেতৃত্ব? মোয়াজ্জেম হোসেনের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে নিশানা করেছে বিরোধীরা।

তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতির পাশাপাশি মোয়াজ্জেম হোসেন মালদহ জেলার বিএলএ ১। আবার জেলায় এসআইআর বিষয়ে সুপারভাইজারও তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ করছে তৃণমূল, তখন মোয়াজ্জেম বলছেন, “আমাদের মালদহ জেলায় কোথাও গন্ডগোল হয়নি। বিএলও-রা ভালো কাজ করেছেন। আমাদের বিএলএ-২ তাঁদের সাহায্য করেছেন।” তখনই তৃণমূলের বিএলএ ২-দের প্রশিক্ষণের কথা উঠে আসে। আইপ্যাক অর্থাৎ প্রতীক জৈনের স্বংস্থা প্রায় এক বছর ধরে বিএলএ ১ এবং বিএলএ ২-দের ট্রেনিং দিয়েছে। ওয়ার্কশপ হয়েছে। কীভাবে বিএলও-দের সঙ্গে কাজ করতে হবে, কীভাবে এলাকার মানুষদের বোঝাতে হবে, সেসব বোঝানো হয়েছে। মোয়াজ্জেম স্বীকার করলেন এসআইআর শুরুর আগে থেকেই বিএলএ ২-দের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে এক বছর আগে থেকে প্রশিক্ষণ শুরুর কথা স্বীকার করতে চাইলেন না তিনি। 

Tmc Leader In Malda (1)

তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন

এসআইআর ঘোষণার আগে থেকে প্রশিক্ষণ শুরু নিয়ে তাঁর বক্তব্যে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, এই ট্রেনিং করানোই হয়েছে গভীর ষড়যন্ত্রের কথা ভেবেই। তাদের বক্তব্য, তৃণমূলের জেলার নেতারাই স্বীকার করে নিচ্ছেন, অনেক আগে থেকেই আইপ্যাক তাঁদের ট্রেনিং দিয়েছে। তার মানে, বাংলায় এসআইআর হবে, তা অনেক আগে থেকেই জানতেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

এই নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে বিজেপির বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করছেন, হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনৈতিক শাসন ব্যবস্থা চালাতে চাইছে। কিন্তু, যদি তৃণমূলের জেলার নেতাদের কথা শোনেন, তাঁরা বলছেন, এক বছর ধরে প্রতীক জৈনের সংস্থার মাধ্যমে বিএলএ-দের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। তাহলে দুটো কথা মিলছে না। এই হঠাৎ করে এসআইআর শুরুর অভিযোগ আসলে আইওয়াশ।”

আবার মালদহের কংগ্রেস নেতা মোত্তাকিন আলম বলেন, “আইপ্যাক নাকি এক বছর আগে জানত, বাংলায় এসআইআর হবে। আইপ্যাক জানা মানে বাংলার সরকার জানা। আইপ্যাক জানত মানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানতেন। তাহলে জেনেশুনে এখন না জানার ভান কেন? বাংলার মানুষ জেনে গিয়েছে, এসআইআর-র নামে মানুষকে হয়রানির পিছনে বাংলার তৃণমূল ও সঙ্গে বিজেপি রয়েছে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *