পিঙ্ক সিটি জয়পুরে ফটোশুট করতে এসে অমানবিক কাণ্ড ঘটালেন ইনফ্লুয়েন্সার। হাতির পিঠে চেপে ছবি-ভিডিও তুলেছেন ওই বিদেশিনী। কিন্তু তার আগে হাতিটির সারা গায়ে গোলাপি রং লাগিয়ে দিয়েছেন ! এই কাণ্ডেই ক্ষুব্ধ পশুপ্রেমীরা। হাতির গায়ে রং লাগানো প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তাঁরা। ফটোশুটের জন্য হাতিকে ব্যবহারের অনুমতিই বা কী করে পেলেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার, উঠছে সেই প্রশ্নও।
আরও পড়ুন:
দিনদশেক আগে নিজের ইনস্টাগ্রামে ভিডিও শেয়ার করেন জুলিয়া বুরুলেভা নামে ওই ইনফ্লুয়েন্সার। সেখানে দেখা যায়, একটি হাতির পিঠে বসে রয়েছেন জুলিয়া। পরনে অতি স্বল্প পোশাক। দেহের অনাবৃত অংশ পুরোটাই গোলাপি রঙে রাঙিয়ে নেন জুলিয়া। একই কাণ্ড করেন হাতিটির সঙ্গেও। ভিডিওতেই দেখা যায়, একটি হাতির সারা গায়ে লাগানো হচ্ছে গোলাপি রং। গোলাপি হাতির পিঠে উঠে প্রচুর ছবি তুলেছেন জুলিয়া, সেগুলিও পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। জানা গিয়েছে, জয়পুরের একটি পরিত্যক্ত গণেশ মন্দিরের সামনে ফটোশুট করেছেন জুলিয়া। গণেশ মূর্তির কথা মাথায় রেখেই হাতির সঙ্গে ফটোশুট করেছেন, এমনটাই মত তাঁর।
ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পশুপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, ভিডিওর ‘প্রপ’ হিসাবে হাতিকে এইভাবে ব্যবহার করাটা অত্যন্ত অত্যাচারী মানসিকতা। অবলা প্রাণীর গায়ে রং মাখানো, নিজের ইচ্ছামতো তাকে ব্যবহার করে ভিডিও বানানো-পুরো বিষয়টিই অত্যন্ত অমানবিক বলে মনে করছে নেটদুনিয়া। এক নেটিজেন জানিয়েছেন, হাতির চামড়ায় বহু ছিদ্র থাকে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর চামড়া থাকে হাতিদের, ফলে গায়ে রং লাগালে ক্ষতি হতে পারে গোটা দেহেই। নেটিজেনদের মতে, নিজের সৃজনশীলতা দেখাতে হলে এআই ব্যবহার করতে পারতেন জুলিয়া।
আরও পড়ুন:
নেটদুনিয়ায় কটাক্ষের মুখে পড়ে জুলিয়ার সাফাই, অরগ্যানিক রং ব্যবহার করা হয়েছে হাতির গায়ে। স্থানীয়রাও নানা উৎসবে এই রং ব্যবহার করেন। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামছে না। নেটিজেনদের অনেকে মনে করছেন, একটি প্রাণীকে জড় বস্তুর মতো ব্যবহার করা মোটেই উচিৎ নয়। হাতির গায়ে রং লাগিয়ে ফটোশুট করার অনুমতিই বা কী করে পেলেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার, উঠছে প্রশ্ন। বিতর্কের মধ্যে পড়ে রাজস্থানের বনদপ্তর জানিয়েছে, এই ঘটনায় তদন্ত হবে।
সর্বশেষ খবর
