<p>CEC Gyanesh Kumar: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাব আনার জন্য সই সংগ্রহ শুরু করেছে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে লোকসভা ও রাজ্যসভার ১০০-র বেশি সাংসদ এতে সই করেছেন।&nbsp;</p><p>&nbsp;</p><img><p>ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা। বিজেপি বিরোধী দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট। তাঁকে অপসারণের নোটিশ আনার মত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘটনার মূল উদ্যোক্তা তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টি।</p><img><p>প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার জন্য একজোট হয়েছে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, লোকসভার ১০০ জনের বেশি এবং রাজ্যসভার ৫০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সই করেছেন।</p><img><p>ECIকে সরাতে সই সংগ্রহে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় ও রাজ্য সভার সাংসদ নাদিমূল হক। লোকসভা থেকে ১৩০ জন ও রাজ্য সভা থেকে ৬৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন।</p><img><p>তৃণমূল সূত্রের খবর, সই সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রস্তাবটি জমা দেওয়া হবে। সম্ভবত বৃহস্পতিবারই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা সকলের সই জোগাড় করছি (জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাবের সমর্থনে)। আর এক-দু’দিনের মধ্যেই নিশ্চিত হয়ে যাবে কবে আমরা এটা জমা দেব।"</p><img><p>তৃণমূলের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টিও। দলের সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব বলেন, "এই ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাবে সমাজবাদী পার্টি ওদের সঙ্গে আছে।"</p><p>সমাজবাদী পার্টির আরেক সাংসদ রাজীব রাই জানান, তিনিই প্রথম নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, "আমরা ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাবের বিষয়ে তৃণমূলের পাশে আছি। ভোটার তালিকা থেকে পনেরো হাজার নাম গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আমিই প্রথম কমিশনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলাম, কিন্তু কেউ শোনেনি।"</p><img><p>অন্যদিকে, বিরোধীদের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর পরামর্শ, সাংবিধানিক সংস্থাগুলির উপর ভরসা না থাকলে তৃণমূলের পাকিস্তান বা বাংলাদেশে গিয়ে ভোটে লড়া উচিত।</p><p>তিনি বলেন, "তৃণমূল সুপ্রিম কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের উপর প্রশ্ন তুলছে। যদি ভারতের সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপরই আপনাদের বিশ্বাস না থাকে, তাহলে আপনাদের নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। এখানে ভোটে লড়ার যুক্তিটা কী? যেখানে নির্বাচন কমিশনকে আপনারা মেনে নেবেন, সেখানে গিয়ে ভোটে লড়ুন। পাকিস্তান বা বাংলাদেশে গিয়ে লড়ুন।"</p><img><p>প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে এবং যে কারণে পদ থেকে সরানো যায়, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও সরানো যায়। এই প্রস্তাব আনার জন্য লোকসভার ১০০ জন অথবা রাজ্যসভার ৫০ জন সদস্যের সই থাকা বাধ্যতামূলক।</p><img><p>তৃণমূল কংগ্রেস বা ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ তুলেছে। সেগুলি হল-</p><ul> <li>১। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি</li> <li>২। পদের অপব্যবহার</li> <li>৩। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার</li></ul><img><p>ভারতীয় সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্বাধীন সংস্থা হিসেবে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদের মর্যাদা সুরক্ষা সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির মত। রাজনৈতিক দল বা সরকারের প্রভাবের বাইরে রাখা হয়েছে এই পদকে।</p><img><p>প্রথমে সই সংগ্রহ। তারপরে অনাস্থা প্রস্তাব আনা।সংসদের দুই কক্ষেই প্রস্তাব পাস হলে শেষ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের আদেশ জারি করেন। তবে এই প্রস্তাব সংসদে পাস হওয়াই কঠিন। কারণ লোকসভা আর রাজ্য সভা দুটি ক্ষেত্রেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটই সংখ্যা গরিষ্ঠ। তাই প্রস্তাব পাশ করানোই কঠিন। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরে খবর, বাংলায় ভোটের আগে আবারও ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শন হবে দিল্লিতে। যা বিজেপিকে এই রাজ্যে ভোট ময়দানে কিছুটা হলেও কোনঠাসা করবে।</p>



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *