গুসকরা: গিয়েছিলেন ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে। আর পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় সেই কর্মসূচিতে এসেই তিনি যান রটন্তীকালী মন্দিরে। সেখানে পুজো দিতে গিয়ে পুজো না দিয়েই ফিরলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বেড়েছে জেলায়। দিলীপ তাঁর মন্দির থেকে ফিরে আসা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু, বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

মঙ্গলবার গুসকরায় বিজেপির ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসেন দিলীপ ঘোষ। প্রথমে তিনি গুসকরা নদীপট্টি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন রটন্তীকালী মন্দিরে পুজো দিতে যান তিনি। জানা গিয়েছে, সেই সময় মন্দিরে পুরোহিত সোমরাজ চোংদার পুজো করছিলেন। এবং আগে থেকেই একাধিক পুণ্যার্থী উপস্থিত ছিলেন। দিলীপ ঘোষ মন্দিরে প্রবেশ করে প্রণাম করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও পুরোহিতের তরফে তিলক কিংবা প্রসাদ না পাওয়ায় তিনি বিরক্ত হয়ে মন্দির থেকে চলে যান। যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি খোদ দিলীপ ঘোষ ।

তবে এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শান্তনু কোনার বলেন, “পুরোহিত তো নিয়ম কানুন মেনেই পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তাছাড়া বিজেপির নেতারা তো নিজেদের হিন্দু ধর্মের ধ্বজাধারী বলেন। সেখানে পুরোহিত কেন তাঁর পুজো দিতে দেরি করলেন, তা তিনিই জানেন। আর দিলীপ ঘোষ এত ভিআইপি নন যে, সবাইকে বাদ দিয়ে তাঁকে আগে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আসলে মা রটন্তীই তাঁকে প্রত্যাখান করেছেন।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, “দিলীপ ঘোষ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও পুরোহিত তাঁর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। অথচ দিলীপ ঘোষ যে আসবেন, তা পুরোহিতকে আগেই বলা ছিল। পরে ডাকার চেষ্টা করা হলেও ব্যস্ততার কারণে তিনি আর ফিরে আসেননি।” মন্দির থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর গুসকরা স্কুলমোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ।

অন্যদিকে, মন্দিরের পুরোহিত সোমরাজ চোংদার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “শুক্লপক্ষের মঙ্গলবার হওয়ায় মন্দিরে ভিড় ছিল অত্যন্ত বেশি। সকলের পুজো শেষ করে তারপর দিলীপ ঘোষের পুজো করানোর পরিকল্পনা ছিল। পুজো করতে করতেই আমি তাঁকে হাত দেখিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে বলেছিলাম।  কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করেই মন্দির ছেড়ে চলে যান।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *