ইউনুসের বাংলাদেশে একদিকে মৌলবাদীদের উত্থানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এইসঙ্গে ভেঙে পড়েছে অর্থনীতিও। ক’দিন আগেই বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝার কথা স্বীকার করেছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। এহেন পরিস্থিতিতে চিনা অর্থসাহায্যে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল তৈরি করবে বাংলাদেশ। সেদেশের নিলফামারি জেলায় হবে এই হাসপাতাল।

আরও পড়ুন:

জানা গিয়েছে, হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য খরচ পড়বে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৪ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা (ভারতীয় মুদ্রার অঙ্কে ১৭১৯ কোটি টাকা)। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অবদান মাত্র ১৭৯.২৭ কোটি টাকা (ভারতীয় মুদ্রার অঙ্কে ৫৪ কোটি টাকা টাকা)। বাকি অর্থের জোগান দেবে চিন। অর্থাৎ মোট খরচের ৯৩ শতাংশ খরচই দেবে বাংলাদেশের ‘বন্ধু’ দেশটি। গত বছরের মার্চে ঢাকার তরফে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সমস্ত পদক্ষেপ করল বেজিং প্রশাসন। ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই ওই হাসপাতাল তৈরির ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দশতলা ভবনটি ছাড়াও নির্মিত হবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন ইত্যাদি। সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অঙ্কোলজি, নিউরোলজি প্রভৃতি বিভাগ থাকবে। এমনকী থাকবে হেলিপ্যাডও।

বাংলাদেশ জুড়ে বইছে ভারত-বিরোধিতার হাওয়া। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনে ভারতেরই উপরে নির্ভরশীল ঢাকা। জন্মের পর থেকেই সেদেশের নাগরিকদের মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করতে আসতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। প্রায় একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ। তাই এবার ‘গোঁসা’ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনেও কলকাতা থেকে মুখ ঘোরাতে চাইছে ইউনুস প্রশাসন। সেই কারণেই এবার চিনের হাত ধরে হাসপাতাল নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। আগেই চিনের কুনমিং শহরের কয়েকটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছে জিনপিং প্রশাসন। এবার সেই ‘বন্ধুর’ অর্থেই মূলত অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি করে ভারত-নির্ভরতা কাটাতে চাইছেন ইউনুস।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *