কী বলছে বিজেপি ও তৃণমূল?Image Credit: TV9 Bangla

বালুরঘাট: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে রাস্তা ঢালাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, রাস্তা ঢালাই হচ্ছিল রাতে। এমনকি, ওই কাজের জন্য লাগানো হয়নি সরকারি কাজের শিডিউল। বিষয়টি জানতে পেরেই গ্রামের রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। শনিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাট ব্লকের ডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌরাপাড়ায়। এদিকে পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানাতেই ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা মেশিনপত্র নিয়ে চম্পট দেন। রাতের বেলা রাস্তার কাজ হচ্ছে জানতে পেরে সেই কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতি। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে যায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। সঠিক নিয়ম রাস্তার কাজ করতে হবে বলে গ্রামবাসীরা সাফ জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতি।

জানা গিয়েছে, চৌরাপাড়ায় আমাদের পাড়া আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে ৩২ মিটার ঢালাই রাস্তা করার উদ্যোগ নেয় বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতি। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৯১ হাজার টাকা। গতকাল রাত ৯টায় হঠাৎ করে রাস্তার কাজ শুরু করেন ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে ওই কাঁচা রাস্তায় জল জমে থাকার কারণে সমস্যায় পড়ছিলেন বাসিন্দারা। সেই কারণে ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তাটি কংক্রিটের করা হচ্ছিল। অভিযোগ, শনিবার রাতে হঠাৎ কাজ শুরু হতেই আওয়াজে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীদের। এরপরই গ্রামবাসীরা ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একটু খতিয়ে দেখতেই নজরে আসে নিম্নমানের রাফ বালি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। কাজের শিডিউল বোর্ডও লাগানো ছিল না দাবি গ্রামবাসীদের। কাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। বিষয়টি জানানো হয় বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতিকেও। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। গ্রামেই পড়ে রয়েছে বালি, সিমেন্ট ও পাথর।

এদিকে শনিবার রাতে কংক্রিটের ঢালাই রবিবার দুপুরে হাত দিতেই উঠে যাচ্ছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট ও নিম্নমানের বালি ব্যবহার করা হয়েছে। তার জন্য রাস্তার কংক্রিট এখনও জমাট বাধেনি। বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী এই নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “অবৈধভাবে রাতে কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করতে চাইছে তৃণমূল। গ্রামের মানুষ সেটা বুঝতে পেরেছেন। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে। সরকারি টাকায় নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। সরকারি অর্থ অপব্যয়ের বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ হওয়া উচিত।”

তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সরকার অবশ্য বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার পরও মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানে ১০ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছেন। রাতে কাজ হচ্ছে জানতে পেরেই আমরা কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। দিনের বেলা কাজ করতে বলেছি।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *