কলকাতা: হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকল সুপ্রিম কোর্টে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হাতে চলে এল সবচেয়ে বড় ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’। যখন দেশজুড়ে চর্চার বিষয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন। সেই সময়ই শীর্ষ আদালতে জয় ছিনিয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেল রাজ্য় সরকার। গত পয়লা অগস্ট থেকে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ শুরু করার জন্য যে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তাতেই মান্যতা দিল শীর্ষ আদালতও। খারিজ হয়ে গেল কেন্দ্রের আবেদন। ফলত হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই ১০০ দিনের কাজের টাকা মঞ্জুর করতে নয়াদিল্লিকে। পাশাপাশি, ১০০ দিনের কাজ শুরু হওয়া নিয়েও কাটল বাঁধা। চার বছর পর মাথার উপর স্বস্তির আকাশ দেখতে পেল বাংলার প্রত্য়ন্ত শ্রেণি।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যদি না মানে কেন্দ্র? এই প্রশ্নও তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। অবশ্য একাংশের মতে, তাতে বিপদ বাড়বে তাঁদেরই। জুড়ে যাবে অবমাননা মামলা। তবে এমন পরিস্থিতি যদি সত্যিই তৈরি হয়, তার জন্য়ও কৌশল তৈরি করে নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। জয়ের আবহেই বড় আন্দোলনের কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বঞ্চনার সুরকেই জিইয়ে রেখে নিজের সমাজমাধ্য়মে তিনি লিখেছেন, ‘কেন্দ্র যদি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া মঞ্জুর না করে তা হলে বাংলা আবার দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে।’

সোমবার দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনের কাজ। আর এই আবহে ঘুরপথে কমিশনকে তির অভিষেকর। দিল্লি টাকা না মেটালে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি অভিষেক লিখেছেন, ‘জমিদাররা ভোটেও হেরেছে, কোর্টেও হেরেছে। কিন্তু আমি জানি, এরপরেও তাঁরা কমিশন ও ইডি-র সমর্থনে নিজেদের খেলা খেলে যাবে। তবে তাঁদের এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন জনগনের আহ্বানের থেকে বড় কোনও শক্তি নেই। ওদের এখনই সেই শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন, না হলে ছাব্বিশের ময়দানে আরও বড় পতনের সম্মুখীন হতে হবে।’

অবশ্য ১০০ দিনের কাজে বেনিয়ম যে হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে এখনও অনড় বিজেপি। তাঁদের দাবি, আদালতও অভিযোগে মান্যতা দিয়েছে। এদিন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘হাইকোর্টের যে রায় নিয়ে তৃণমূল লাফাচ্ছে, সেখানে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের কথা রিপোর্টে তুলেছে। কিছু অর্থ পুনরুদ্ধার করাও হয়েছে। অর্থাৎ আদালত মেনে নিয়েছে দুর্নীতি হয়েছে।’





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *