গরুর মাংসের জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কলকাতার একাধিক জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে বিফের পদ আপাতত তুলে দেওয়া হয়েছে। বিফ স্টেক, বিফ বার্গার থেকে শুরু করে বিফ বিরিয়ানিও মিলছে না বহু জায়গায়। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রেস্তরাঁ মালিকরাও।
নিউ মার্কেটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ নিজামস শুক্রবার থেকেই সাময়িকভাবে বিফের পদ বন্ধ রেখেছে। রেস্তরাঁর চেয়ারম্যান সমর নাগ জানিয়েছেন, সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত। বকরি ইদের পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে পারে বলে আশা তাঁর।
নূর আলি অ্যাভিনিউয়ের জাম জাম রেস্তরাঁতেও বিফ বিরিয়ানি-সহ একাধিক পদ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কারণ, বাজারে বিফের জোগান নেই।
রাসবিহারীর ‘দ্য বার্গার শপ’ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানিয়েছে, তাদের মেনুতে আর বিফ পাওয়া যাচ্ছে না। পোস্টে তারা লিখেছে, “ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, পাঁচ বছর পর আমাদের মেনুতে বদল আনতে হচ্ছে। বিফ আর পাওয়া যাবে না।” রেস্তরাঁর সহ-মালিক উত্সা দাস জানিয়েছেন, আপাতত কোনও জোগান নেই। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
লেক টেরেসের ‘স্টিকইয়ার্ড’ ভোটের পর থেকেই বিফের পদ পরিবেশন বন্ধ করে দিয়েছে। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে তাদের মেনুতে টেন্ডারলয়েন স্টেক-সহ একাধিক বিফ পদ ছিল।
পার্ক স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী মোকাম্বো এখনও মেনু থেকে বিফ সরায়নি। তবে মালিক নীতিন কোঠারি জানিয়েছেন, জোগান বন্ধ থাকায় পদগুলি আপাতত পরিবেশন করা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতেও যদি একই অবস্থা থাকে, তা হলে মেনু থেকে সরিয়ে দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে ওলিপাব, চ্যাপ্টার টু ও স্টেক অ্যান্ড গ্রিলের মতো কিছু রেস্তরাঁ এখনও বিফ পরিবেশন করছে। তবে তারাও জানিয়েছে, সরবরাহ অনিয়মিত থাকলে সমস্যা আরও বাড়বে।
রেস্তরাঁ মালিকদের দাবি, সরকারের তরফে কোনও বিফ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়নি। মূল সমস্যা জোগান নিয়ে।
জানা গিয়েছে, ট্যাংরার কসাইখানায় গরু জবাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই শহরে বিফের সরবরাহে ধাক্কা লাগে। কসাইখানা সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবারের পর নতুন করে গবাদি পশু আসেনি। ফলে শহরের গোটা বিফ সরবরাহ শৃঙ্খলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর প্রভাব শুধু বড় রেস্তরাঁতেই নয়, রাস্তার ধারের খাবারের দোকান ও ছোট মাংসের দোকানগুলিতেও পড়েছে। অনেক ছোট খাবারের দোকানও সাময়িকভাবে বিফের পদ তুলে দিতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
