দেশে পড়ে থাকা সোনাকে অর্থনীতির মূল স্রোতে আনতে কেন্দ্রের গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম বা জিএমএস-এ একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিল মালাবার গোল্ড এন্ড ডায়মন্ড। সংস্থার চেয়ারম্যান এম.পি. আহাম্মদ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীষুষ গোয়েল-এর কাছে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।

সংস্থার দাবি, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। অন্যদিকে ভারতীয় পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টন সোনা অলংকার, বার বা কয়েন আকারে পড়ে রয়েছে, যার বড় অংশ অর্থনীতিতে কোনও কাজে লাগছে না।

কী এই গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম?

গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম বা জিএমএস হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পে সাধারণ মানুষ নিজের বাড়িতে থাকা সোনা ব্যাঙ্কে জমা রাখতে পারেন। সেই সোনা পরে অর্থনীতির কাজে ব্যবহার করা হয়। এর বদলে গ্রাহক সুদ পান। এর মূল লক্ষ্য হল বিদেশ থেকে সোনা আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো।

তবে মালাবার গোল্ডের মতে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কম হওয়ার কারণ—

  • বেশি লক-ইন পিরিয়ড (নির্দিষ্ট সময়ের আগে টাকা বা সোনা তোলা যায় না)
  • কম লাভের ধারণা
  • জটিল নিয়ম
  • সোনা ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা

কী কী পরিবর্তনের প্রস্তাব?

মালাবার গোল্ড কয়েকটি বড় পরিবর্তনের কথা বলেছে। যেমন—

  • ১০ গ্রামের বদলে ১ গ্রাম সোনা জমা দেওয়ার সুযোগ
  • সোনা বা নগদ— দু’ভাবেই ফেরত পাওয়ার সুবিধা
  • সহজ আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি
  • কম লক-ইন সময়
  • স্বচ্ছ সোনা পরীক্ষা ও মূল্য নির্ধারণ
  • জুয়েলারি সংস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা
  • পুনর্ব্যবহৃত সোনার উপর জিএসটি ছাড়ের ভাবনা

এখানে ই-কেওয়াইসি বলতে অনলাইনে আধার বা পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রস্তাব?

সংস্থার দাবি, দেশের ঘরে থাকা সোনার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশও যদি বাজারে আনা যায়, তা হলে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টন সোনা অর্থনীতিতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে বিদেশ থেকে সোনা আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

মালাবার গোল্ডের চেয়ারম্যান এম.পি. আহাম্মদ বলেন, দেশে থাকা পুরনো সোনার পুনর্ব্যবহার, বিনিময় এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের উপর জোর দিলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনার সঙ্গেও এই উদ্যোগ মিল রয়েছে বলে দাবি সংস্থার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *