দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিটের চাপ কমাতে সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগে যেখানে এই দুই মূল্যবান ধাতুর উপর ৬ শতাংশ শুল্ক ছিল, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৫ শতাংশ। একই ভাবে প্ল্যাটিনামের উপর আমদানি শুল্ক ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫.৪ শতাংশ।
কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার আবহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি কিছুটা কমবে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
শুল্ক বাড়লেও কমবে কি আমদানি?
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, শুল্ক বাড়ানো হলেও ভারতের সোনা আমদানির খরচ খুব একটা কমবে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এখন অনেক বেশি। ফলে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও মোট খরচ কমার সম্ভাবনা কম।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সোনা আমদানির পরিমাণ ৪.৭৬ শতাংশ কমে ৭২১ টনে নেমেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় মোট আমদানি মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরে যা ছিল প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
রুপোর ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। গত অর্থবর্ষে রুপো আমদানি ৪২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মূল্য বৃদ্ধির কারণে রুপো আমদানির মোট খরচ প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের কী মত?
বার্কলেজ় ইন্ডিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ আস্থা গুদওয়ানির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার উচ্চ মূল্য আমদানি খরচ বাড়িয়ে দেবে। ফলে শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সীমিত হতে পারে। তাঁর অনুমান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের সোনা আমদানির বিল আরও প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
অন্যদিকে গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বা জিটিআরআই সতর্ক করেছে, শুল্কের এই ব্যবধানের কারণে দুবাই হয়ে ভারতে সোনা ও রুপো আমদানির প্রবণতা বাড়তে পারে। কারণ ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দুবাই থেকে আমদানিতে কম শুল্ক দিতে হয়।
বাড়তে পারে চোরাচালানের আশঙ্কা
শিল্পমহলের একাংশের আশঙ্কা, আমদানি শুল্ক এতটা বাড়ালে সোনা ও রুপোর চোরাচালানও বাড়তে পারে। অতীতেও দেখা গিয়েছে, শুল্ক বাড়লে অবৈধ পথে মূল্যবান ধাতু দেশে আনার প্রবণতা বাড়ে। ফলে সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
