পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নতুন বিধানসভা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা এডিআর। নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখে তৈরি এই রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক উদ্বেগজনক তথ্য। নতুন বিধানসভায় বহু বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি কোটিপতি বিধায়ক, মহিলা প্রতিনিধিত্ব এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ছবিও সামনে এসেছে।

গুরুতর অপরাধের মামলায় ১৭০ বিধায়ক

এডিআর-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সদ্য নির্বাচিত ২৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১৯০ জনের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ বিধায়ক মামলার মুখোমুখি। এর মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে—

  • ১৪ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে খুনের মামলা
  • ৫৪ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ
  • ৬৩ জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ
  • ২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রয়েছে

একুশের বিধানসভায় ১৪২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল। সেই তুলনায় এবার সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।

কোন দলে কত জনের বিরুদ্ধে মামলা?

দলভিত্তিক হিসাবেও বড় তথ্য সামনে এসেছে। বিজেপির ২০৬ জন বিধায়কের মধ্যে ১৫২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কংগ্রেসের জয়ী ২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহিলা ও কোটিপতি বিধায়কদের ছবি

নতুন বিধানসভায় মহিলা প্রতিনিধিত্বও খুব বেশি বাড়েনি। মোট জয়ী বিধায়কদের মধ্যে মাত্র ৩৭ জন মহিলা। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ১৩ শতাংশ। ২০২১ সালের বিধানসভায় মহিলা বিধায়কের হার ছিল ১৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, নতুন বিধানসভায় ১৭৮ জন বিধায়ক কোটিপতি। এছাড়া প্রায় ৬৩ শতাংশ বিধায়ক স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিত বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এডিআর-এর মতে, অপরাধমূলক মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পদ ও শিক্ষার ছবিও বাংলার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে আনছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *