পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন নরেন্দ্র মোদি। রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদে এক সভা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে একাধিক আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী। পেট্রল-ডিজ়েলের ব্যবহার কমানো থেকে শুরু করে আবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করার পরামর্শও দেন তিনি।
ওয়ার্ক ফ্রম হোমে জোর
মোদী বলেন, করোনা অতিমারির সময় যেমন বাড়ি থেকে কাজ ও অনলাইন বৈঠকের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, “ওয়ার্ক ফ্রম হোম, অনলাইন কনফারেন্স ও ভার্চুয়াল মিটিং আবার বাড়াতে হবে। এতে যেমন জ্বালানির ব্যবহার কমবে, তেমনই বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, ভোজ্য তেল ও সারের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের উপর গভীর প্রভাব পড়েছে।
দেশবাসীকে আরও সংযমী জীবনযাপনের বার্তা দিয়ে মোদী বলেন, পেট্রল-ডিজ়েল কম ব্যবহার করতে হবে। মেট্রো, কারপুল ও রেলপথ বেশি করে ব্যবহার করার আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন। রান্নার তেল অন্তত ১০ শতাংশ কম ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা যেমন বাঁচবে, তেমনই মানুষের স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে।
শুধু জ্বালানি নয়, সোনা কেনা ও বিদেশভ্রমণের ক্ষেত্রেও সংযমের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনার গয়না না কেনার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া বা বিয়ে আয়োজনের প্রবণতা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শও দেন। তাঁর বক্তব্য, “ভারতের মধ্যেই বহু সুন্দর জায়গা রয়েছে। এখন দেশের স্বার্থে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো জরুরি।”
রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো
কৃষিক্ষেত্রেও বড় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে প্রাকৃতিক কৃষিকাজের দিকে ঝোঁকার আবেদন জানান তিনি। সৌরশক্তিচালিত পাম্প ব্যবহারের উপরেও জোর দেন। মোদীর দাবি, দেশের স্বার্থে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে এবং এই সঙ্কট মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ।
