যে পর্বে বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার কথা সেই পর্বে কি ঠিক ভোট হল? প্রথম দফার নির্বাচনের পর গেরুয়া শিবিরেরই তা নিয়ে ধন্দ রয়ে গেল।

এই বিষয়ে আরও খবর

১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া-পুরুলিয়া, আবার পূর্ব মেদিনীপুর, এই পর্বের ভোটে এই অংশ থেকেই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যাওয়ার জায়গা ছিল গেরুয়া শিবিরের। কারণ এই অংশ গত একুশের ভোটেও ভালো ফল করেছিল বিজেপি।

কিন্তু এই পর্বের ভোটে কি সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছনো গেল? যে আশা ছিল তা কি পূরণ হল? দিনের শেষে সেই সমীক্ষা শুরু করে দিয়েছে রাজ‌্য বিজেপি। সমগ্র উত্তরবঙ্গ ও গোটা জঙ্গলমহলের পাশাপাশি ভোট হয়েছে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আসনে ভোট শেষ হয়েছে প্রথম দফায়।

পরিসংখ‌্যান বলছে, প্রথম দফার ভোটের ১৫২টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালের বিধানসভায় তৃণমূল জিতেছিল ৯২টিতে। বিজেপির দখলে ছিল ৫৯টি আসন। বাকি ১৪২টি আসন, যেখানে ভোট হবে সেখানে বিজেপির দখলে ছিল গতবার মাত্র ১৮টি আসন। কাজেই বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার জায়গা এই প্রথম পর্বটাই। উত্তরবঙ্গ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুরে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। আবার মালদহে যদি মেরুকরণের ভোট হয়ে থাতে তাহলে বিজেপির একটা আশা রয়েছে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে অবশ‌্য প্রথম দফার বিধানসভাগুলির মধ্যে বিজেপি এগিয়েছিল ৫৩টি আসনে। ২০২১ সালে যে বাম-কংগ্রেস ছিল শূন্য, তারা আবার গত লোকসভা ভোটে ১২টি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল। এর মধ্যে কংগ্রেস ১১টি এবং বামেরা একটিতে। এবার প্রথম দফার ভোটে অর্থাৎ ওয়ান ডে ক্রিকেটে ‘পাওয়ার প্লে’-তে কত বেশি রান বিজেপি তুলতে পারবে তা নিয়ে দলের মধ্যেই কাটাছেঁড়া ও বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গিয়েছে।

মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও কোচবিহারে মেরুকরণের আবহ থাকায় বিজেপির ফল এখানে ভালো হয়েছিল। এবার মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অংশে মেরুকরণের আবহ আরও তীব্র হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বিজেপি আদৌ কি লাভবান হল তা নিয়ে একটা প্রশ্নও ঘুরছে দলের মধ্যে। আবার জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে প্রথম দফায় রাজবংশী ভোট কতটা ধরে রাখা গেল তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে পদ্মশিবিরের অন্দরে। কারণ, একতরফা দখল থাকা এই এলাকায় গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ধস নেমেছিল। আবার অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বিজেপির কিছুটা দূরত্ব থাকা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরের আদিবাসী ভোট পেতে বিজেপি মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। ভোট প্রচারে সেখানে অর্জুন মুন্ডা, বাবুলাল মারান্ডির মতো নেতাদের আনা হয়েছিল। কিন্তু তাতে দল কতটা লাভবান হল প্রথম দফার ভোটে তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। এদিকে, নিচুতলা থেকে দলের সাংগঠনিক রিপোর্ট নিয়েও চিন্তায় বিজেপি। কারণ, প্রথম দফার ভোটের দিন একাধিক বুথে দলের এজেন্ট ছিল না। এলাকায় কর্মীরা সেভাবে নামেনি। দলের কমিটেড ভোটারদের বুথমুখী করার ক্ষেত্রেও খামতি রয়ে গিয়েছে বিজেপির নিচুতলায়। সেসব নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা চলেছে বিজেপির সল্টলেক অফিসে।

এই অফিসে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনশল, বিপ্লব দেব-দের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিচুতলার রিপোর্ট নিয়েছেন। পুরোটাই মনিটরিং করেছেন শাহ নিজেই। তবে প্রথম দফার ভোট নিয়ে বিজেপির দাবি, প্রথম দফায় ভাল ফল হতে চলেছে। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘‘১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনে বিজেপি জয়ী হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, সব জায়গাতেই তৃণমূল সাফ হয়ে যাবে।’’

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *