ইস্টবেঙ্গল এফসি: ৩ (আনোয়ার আলি, সাউল ক্রেসপো, আন্তন সয়েবার্গ)
বেঙ্গালুরু এফসি: ৩ (আশিক কুরুনিয়ান, সুরেশ সিং ওয়াংজাম, রায়ান উইলিয়ামস)
খবর অনলাইন ডেস্ক: ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) ২০২৫-২৬ মরশুমে বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ৩-৩ গোলে ড্র করল ইস্টবেঙ্গল এফসি। ম্যাচের বড় অংশে দশ জন নিয়ে খেলেও তিন বার পিছিয়ে পড়ে তিন বারই সমতায় ফেরে লাল-হলুদ শিবির। শেষ মুহূর্তে আন্তন সয়েবার্গের গোলে এক মূল্যবান পয়েন্ট উদ্ধার করে তারা।
এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই ১৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আট ম্যাচে গোল পার্থক্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্ বেঙ্গল। এক ম্যাচ বেশি খেলে চতুর্থ স্থানে বেঙ্গালুরু এফসি। ম্যাচের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন সাউল ক্রেসপো।

এ দিন ম্যাচের সেরা ফুটবলার হলেন সাউল ক্রেসপো।
প্রথমার্ধে বেঙ্গালুরু ২-১ গোলে এগিয়ে
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ইস্টবেঙ্গল প্রথম থেকেই চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বেঙ্গালুরুও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ১২ মিনিটে প্রথম গোল করে বেঙ্গালুরু। বাঁ দিক থেকে সিরোজিদ্দিন কুজিয়েভের পাস পেয়ে আশিক কুরুনিয়ান দুর্দান্ত ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। প্রভসুখন সিং গিলের কিছুই করার ছিল না।
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি ইস্টবেঙ্গল। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে মিগেল ফেরেইরার বল বক্সে আসে। কেভিন সিবিলের হেডের পর বল আলগা হয়ে গেলে অনোয়ার আলি অসাধারণ ওভারহেড কিকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। ২৪ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সাইডলাইনের কাছে উত্তেজনার জেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিগেল ফেরেইরা। ফলে বাকি ম্যাচ দশ জন নিয়ে খেলতে হয় ইস্ট বেঙ্গলকে।
সংখ্যায় এগিয়ে যাওয়ার পর বেঙ্গালুরু আবার চাপ বাড়ায়। ৪০ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের নিচু ক্রস গিল ঠিকমতো ধরতে না পারলে ফিরতি বলে সুরেশ সিং ওয়াংজাম সহজ সুযোগ থেকে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।


আক্রমণে ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ করল লাল-হলুদ
দ্বিতীয়ার্ধে বেঙ্গালুরু বলের দখল বেশি রাখলেও ইস্টবেঙ্গল পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজতে থাকে। ৫৬ মিনিটে রক্ষণ থেকে বল পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয় বেঙ্গালুরু। সেই সুযোগে বক্সের বাইরে থেকে সাউল ক্রেসপো নিখুঁত বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে স্কোর ২-২ করেন। তবে ৭২ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় অতিথিরা। বদলি ফুটবলার সোহম বর্ষ্ণেয়ার বাড়ানো পাস ধরে রায়ান উইলিয়ামস বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে ডিফেন্স ভেঙে গোলরক্ষককে কাটিয়ে টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে গোল করেন।
ম্যাচ তখন বেঙ্গালুরুর দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল। কিন্তু দশ জনের ইস্টবেঙ্গল হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আসে নাটকীয় সমতা। দারুণ দলগত মুভ থেকে বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পান আন্তন সয়েবার্গ। ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের শটে গোল করে তিনি যুবভারতীকে উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৩-৩ ফলাফল নিশ্চিত হয়। দশ জনে দুর্দান্ত লড়াই করে এক পয়েন্ট পাওয়ায় খুশি ইস্টবেঙ্গল, আর জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশ বেঙ্গালুরু এফসি।
ছবি: সঞ্জয় হাজরা
