Biometric Voter Verification: ভোট জালিয়াতি রুখতে পোলিং বুথে আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি স্ক্যান করে পরিচয় যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। এক জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের মতামত চেয়েছে। 

ভোটের সময় ছাপ্পা, একজনের ভোট অন্যজনে দেওয়া বা ভুয়ো ভোটারের মতো জালিয়াতি রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠল। পোলিং বুথে ভোটারদের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) এবং চোখের মণি (আইরিস) স্ক্যান করে পরিচয় যাচাই করার জন্য একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার সেই মামলার শুনানিতেই শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশন (ECI), কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলির কাছে নোটিস পাঠিয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই নোটিস জারি করেছে। তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়া চালু করতে গেলে নিয়মে বদল আনতে হবে এবং এর জন্য সরকারের প্রচুর টাকাও খরচ হবে। আদালত জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়। তবে আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

জনস্বার্থ মামলা দায়ের

এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী তথা সমাজকর্মী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়। সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে তিনি এই আবেদন করেছেন। তাঁর মূল দাবি, নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হোক যাতে তারা পোলিং বুথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে “এক নাগরিক, এক ভোট” নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা যাবে এবং শুধুমাত্র আসল ভোটাররাই ভোট দিতে পারবেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ভোটার কার্ড এবং হাতেকলমে পরিচয় যাচাই করার যে পদ্ধতি চালু আছে, তাতে অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। পুরনো ছবি, তথ্যে ভুল বা রিয়েল-টাইম যাচাইয়ের ব্যবস্থা না থাকায় এর অপব্যবহার করা খুব সহজ।

ভোটারদের বায়োমেট্রিক তথ্য

এর সমাধান হিসেবে বলা হয়েছে, যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তির বায়োমেট্রিক তথ্য একেবারে আলাদা এবং নকল করা যায় না, তাই এই ব্যবস্থা চালু হলে একজনের জায়গায় অন্যজনের ভোট দেওয়া বা একাধিকবার ভোট দেওয়ার মতো জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব। পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে পরিযায়ী ভোটার, তালিকায় ডুপ্লিকেট নাম এবং ‘ভুয়ো ভোটার’ (ghost voters)-এর মতো সমস্যাও মেটানো যাবে। এর ফলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *