হিমালয়ের গহীন কন্দরে তুষারলিঙ্গ দর্শনের প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ঘোষিত হল ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রার নির্ঘণ্ট। আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এই বহুকাঙ্ক্ষিত তীর্থযাত্রা। শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড সূত্রে খবর, এ বছর যাত্রা চলবে টানা ৫৭ দিন ধরে। ২৮ আগস্ট রাখি পূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে সমাপ্তি ঘটবে এই যাত্রার। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজ সাজ রব উপত্যকায়।

যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনার আগে আধ্যাত্মিক আবহে পালিত হবে ‘প্রথম পুজো’। আগামী ২৯ জুন জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার তিথিতে ভগবান শিবের আশীর্বাদ নিয়ে শুরু হবে এই বছরের মহাযজ্ঞ।

আরও পড়ুন:

ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন?
তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে প্রশাসন ১৫ এপ্রিল থেকেই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই ভক্তরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য দেশজুড়ে জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাঙ্ক, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) এবং ইয়েস ব্যাঙ্কের ৫৫৪টি শাখাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রাইন বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও ঘরে বসে আবেদন করা যাবে।

তবে অমরনাথের দুর্গম পথে পা রাখা মোটেই সহজ নয়। তাই শারীরিক সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। প্রত্যেক তীর্থযাত্রীর জন্য অনুমোদিত চিকিৎসক প্রদত্ত বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য শংসাপত্র বা ‘হেলথ সার্টিফিকেট’ জমা দেওয়া আবশ্যিক। এই শংসাপত্র ছাড়া কাউকেই যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। যাত্রাপথ হিসেবে চিরাচরিত পহেলগাঁও এবং তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত বালতাল— দুই পথই খোলা থাকছে।

ছবি: সংগৃহীত

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে কোনও খামতি রাখা হবে না। রাস্তার দুধারে ইতিমধ্যেই লঙ্গর, চিকিৎসা শিবির এবং অস্থায়ী আবাসন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত গরম জামাকাপড় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা মহাদেবকে চোখের দেখা দেখতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন শৈবভক্তরা। ১৫ এপ্রিলের ভোরে সেই লক্ষ্যেই শুরু হবে নাম নথিভুক্ত করার চূড়ান্ত ব্যস্ততা।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *