বৈঠক ব্যর্থ হতেই ইরানের বিরুদ্ধে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চেনা সুরে ফের তেহরানের উদ্দেশে হুমকি দিলেন তিনি। জানালেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে তেহরান শেষ পর্যন্ত আমেরিকার দাবি মেনে নেবে। অন্যথায়, মার্কিন সেনা ইরানে হামলা চালাবে। গোটা ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে মাত্র একদিন সময় লাগবে।’

রবিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান ইস্যুতে ফের স্বমহিমায় দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “আমি একদিনে ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারি।” ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “মাত্র একঘণ্টায় আমি ইরানের সমস্ত শক্তি, ওদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দিতে পারি।” একইসঙ্গে ট্রাম্প যোগ করেন, ”এই ধরনের পদক্ষেপ করতে আমার রুচিতে বাঁধছে, কিন্তু আমি যদি এটা করি তবে তা পুনর্নির্মাণ করতে ওদের ১০ বছর লেগে যাবে। এবং আমার মনে হয় না ওরা তা আবার পুনর্নির্মাণ করতে পারবে।” এখানেই অবশ্য থামেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের কোমর ভাঙার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি আপনাদের জানিয়ে রাখছি ওরা ফের আলোচনার টেবিলে ফিরবে। এবং আমরা যা চাই ওরা সবকিছুই দেবে। আমি সবকিছুই চাই, আর ওদের হাতে কোনও বিকল্প নেই।”

আরও পড়ুন:

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “মাত্র একঘণ্টায় আমি ইরানের সমস্ত শক্তি, ওদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দিতে পারি।”

উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া বিশেষ লাভ হয়নি আমেরিকার। উলটে হরমুজে পড়েছে তালা। এই অবস্থায় শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা সে বৈঠকও ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় ইরানের ঘাড়ে চাপিয়ে ভ্যান্স বলেন, “আমেরিকা কী চায় এবং কী চায় না তা পরিষ্কারভাবে বৈঠকে আমরা জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও কোনও সমঝোতায় আসা যায়নি। সমাধান সূত্র ছাড়াই আমরা ফিরে আসছি।” ভ্যান্স আরও বলেন, “পারমাণবিক বোমা তৈরি না করা নিয়ে আমরা ইরানের কাছ থেকে আশ্বাস চেয়েছিলাম। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টও চাই চেয়েছিলেন। কিন্তু তা-নিয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছতে পারিনি।”

অন্যদিকে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশাসন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বিশ্বের সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এই আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা। এই বৈঠক ছিল শুধুই দেখনদারি। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা নিজেদের দাবি থেকে পিছু হটতে চাইছে না। আলোচনার টেবিলে শর্ত আরোপ ছাড়া আর কোনও কথাই বলা হয়নি। ইরানের পক্ষে তা মেনে নেওয়া যে সম্ভব নয়, আমেরিকা সেটা জানে। ওরা শুধু অজুহাত খুঁজছিল যাতে এই আলোচনার ব্যর্থতার দায় পুরোটাই ইরানের ঘাড়ে ঠেলা যায়। এই ডামাডোলের মাঝেই এবার ইরানের উদ্দেশ্য ফের হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *