নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজনৈতিক থিয়েটারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের জন্মদিনে স্মরণ করা হল আরেক বিস্মৃতপ্রায় প্রতিবাদী নাট্যস্বরকে। গত ২৮ ও ২৯ মার্চ, বালার্ক থিয়েটার গ্রুপের ১৪তম প্রতিষ্ঠাদিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ নাট্য আয়োজন। একদিকে যেমন শিশুদের নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল আন্তঃবিদ্যালয় নাট্যোৎসব ‘শিশুরঙ্গ’, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক নাট্যকর্মী বীরসেনের স্মরণে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ স্মারক বক্তৃতা। ২৯ মার্চ, কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব উৎপল দত্তের জন্মদিনে বাংলার আরেক লড়াকু নাট্যকর্মী বীরসেনকে স্মরণ করার এই উদ্যোগ কলকাতার নাট্যবৃত্তে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

বালার্ক নাট্যপত্র প্রকাশ।

​বাদল সরকারেরও আগে কলকাতার রাজপথে ও কার্জন পার্কে মুক্ত নাট্যের চর্চা শুরু করেছিলেন বীরসেন। সত্তরের দশকের সেই উত্তাল সময়ে তাঁর নাটক ছিল প্রতিবাদের এক জ্বলন্ত হাতিয়ার। কিন্তু কালের নিয়মে আজ তিনি প্রায় বিস্মৃত। সেই ভুলে যাওয়া ইতিহাসকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই বালার্ক থিয়েটার গ্রুপ প্রতি বছর আয়োজন করে ‘বীরসেন স্মারক বক্তৃতা’।

​২৯ মার্চ, উত্তর দমদম সাধারণ পাঠাগারে আয়োজিত এবারের বক্তৃতার বিষয় ছিল – ‘আমার পারফরমান্স আমার রাজনীতি’। এই সময়োপযোগী বিষয়ে নিজের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও নাট্যজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন বিহারের ‘নটমণ্ডপ’ নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালক জনাব পারভেজ আখতার। আইপিটিএ (IPTA) আন্দোলনের এই দীর্ঘদিনের কর্মী এবং সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট এই নাট্যজনের বক্তব্য দর্শকদের গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এই বিশেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট নাট্য গবেষক ড. আশিস গোস্বামী এবং নাট্য গবেষক ও অধ্যাপক ড. গগনদীপ।

‘শিশুরঙ্গ’ উৎসবের অংশগ্রহণকারী হরদয়াল স্কুল।

​এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ২৮ মার্চ, শিশুদের মধ্যে নাট্যচর্চার প্রসারের লক্ষ্যে উদয়পুর হরদয়াল নাগ আদর্শ বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় আন্তঃবিদ্যালয় নাট্য উৎসব ‘শিশুরঙ্গ ২০২৬’। কচিকাঁচাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও মঞ্চাভিনয় প্রমাণ করে যে, আগামীর থিয়েটার সঠিক হাতেই গড়ে উঠছে।

​অতীত ও ভবিষ্যতের এই মেলবন্ধন সম্পর্কে বলতে গিয়ে সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নাট্য গবেষক নীলাঞ্জন হালদার একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি জানান, “ভবিষ্যতে এই বক্তৃতাগুলি থেকে পুস্তিকা তৈরি করা হবে এবং সুস্থ সমাজের লক্ষ্যে একদিকে যেমন এই ভুলে যাওয়া অতীতের নাট্যকর্মীদের স্মরণ করতে হবে, তেমনই আগামী দিনের নাট্যজনদের খুঁজে আনতে স্কুলে স্কুলে পৌঁছে যেতে হবে নাট্য উৎসব ‘শিশুরঙ্গ’ নিয়ে।”

নগর সংকীর্তন থেকে অঙ্গনমঞ্চ বইটির প্রচ্ছদ প্রকাশ।

​একদিকে উৎপল দত্তের জন্মদিনে বীরসেনের মতো এক আপসহীন নাট্যকর্মীকে স্মরণ, আর অন্যদিকে ‘শিশুরঙ্গ’-এর মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে থিয়েটারের বীজ বপন – বালার্ক থিয়েটার গ্রুপের এই দ্বিবিধ প্রয়াস সুস্থ সমাজ ও সুস্থ সংস্কৃতির রূপরেখাই নিশ্চিত করছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *