
পর্ণশ্রী : বেহালায় নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় এফআইআর দায়ের। বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর-এ নাম রয়েছে আরও কয়েকজনক তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের। এই বিষয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। বেহালা বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে দলের কর্মীদের পুলিশ তুলে নিয়ে গেলে তিনিও থানায় যান। কিন্তু, এটা যদি অপরাধ হয়, তার জন্য যদি এফআইআর হয়, তাহলে সেই বিষয়ে তাঁর কিছুই বলার নেই। এখন সবটাই নির্বাচন কমিশনের হাতে। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বেহালার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার বেহালার পর্ণশ্রীতে বিজেপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ-এর পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে বিজেপি। অভিযোগ বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে তৃণমূলের পোস্টার লাগাতে আসেন কয়েকজন। সেইসময় বিজেপি কর্মীরা বাধা দিলে তাঁদের উপর চড়াও হয় তৃণমূলের কর্মীরা। বিজেপির অভিযোগ, বাধা দেওয়ার পরই তৃণমূলের ৩০ থেকে ৪০ জন লোক এসে বিজেপির কার্যালয় ভাঙচুর করে। একইসঙ্গে ইন্দ্রনীল খাঁ-এর পোস্টার ব্যানার সব ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে থানার সামনে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। থানায় যান বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ। পরে রত্না চট্টোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছতেই চোর চোর স্লোগান দেয় বিজেপি কর্মীরা। গোটা ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়।
এই ঘটনায় তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় পর্ণশ্রী থানায়। বিজেপি নেতা মনোজ হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। রত্না চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে পিকলু ওরফে অভিজিৎ মিত্র, বাপি নাগ, মন্টি সিং, পুরান থাপা, ঝুম্পা দাস, আকাশ থাপা-সহ আরও কয়েকজনের। বিজেপি কর্মীর উপর হামলা ও দলীয় কার্যালয় থেকে ল্যাপটপ থেকে চুরির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ওরা একটা ফুটেজ দেখিয়েছে যে আমার ছেলেরা ব্যানার ছিঁড়ছে। যদি তাঁরা আমার ছেলেও হয়, তাহলে সেই ফুটেজের কোনও একটা অংশেও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে আমাকে দেখা গিয়েছে কিনা দেখবেন। উত্তেজনা তৈরি করেছিল ওঁরা। আমাদের ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়েছে ওরা। ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। পরে দু’জনকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেলে থানায় যাই। থানায় যাওয়াটা যদি আমার অপরাধ হয়, তার জন্য আমাকে এসব কেস দেয় তাহলে কিছু বলার নেই।”
নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “এখন আমরা নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এতদিন জানতাম নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ সংস্থা। সেই নির্বাচন কমিশন যদি কারও হয়ে কাজ করে আমাদের কেস দেয়, তাহলে মেনে নিতে হবে।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, কেস দিলেই তো হবে না, তার প্রমাণও করতে হবে। এর উত্তর তিনি ভোটের পর দেবেন বলে জানিয়েছেন।
