
পড়ার সময়: ৬ মিনিট
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ, পরিবহণ, শিল্প, কৃষি, আমদানি রপ্তানি সহ অন্তত ১০টি খাতে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি আমদানিতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার লোডশেডিং বৃদ্ধি, বাজার ও অফিস সময় কমানোসহ চাহিদা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হতে পারে।
ইরানে ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে তেল পরিবহনের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশে তেলের সংকট দেখা দেয়।


জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে সংসদে দ্বিতীয় দফার আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সরকার সনদের সব দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেও সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে বিরোধীদল সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেছে, সময়সীমা পেরোলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে।
এদিকে সংসদে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল ও চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ করার বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা পারস্পরিক দোষারোপ পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ৬২ বিধিতে মুলতবি প্রস্তাব এনে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সংসদে আলোচনা দাবি করেন। তিনি বলেন, সনদটি সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, একই ধরনের একটি প্রস্তাব গত ৩০শে মার্চও সংসদে আলোচনা হয়েছে।

রাজস্ব খাত সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫’ সংসদে বিল আকারে না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থাপন না হলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাবে।
অধ্যাদেশটিতে এনবিআরকে দুটি বিভাগে ভাগ করে করনীতি প্রণয়ন ও কর আদায় আলাদা করার প্রস্তাব ছিল, যা ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের দাবি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতির জন্য জরুরি একটি সংস্কার থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এতে আইএমএফের ঋণ প্রাপ্তিও অনিশ্চিত হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে।
এর মধ্যে ৪টি বাতিল করা ও ১৬টি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত দুটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত তিনটি, গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুটি এবং দুদক সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ।

জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ ল্যাপসের প্রস্তাব রয়েছে, যা সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।
জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, আলোচিত বিলগুলো অধ্যাদেশ থেকে আসেনি, এগুলো নতুন বিল। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে যাচাই বাছাই করে ধাপে ধাপে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কালে ১৩৩টি অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে (১২ই মার্চ) এগুলো উপস্থাপন করা হয়। পরে এগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো গোপন চুক্তি নেই। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির প্রয়োজন হয় এমন দাবি তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
জ্বালানি সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গোপনীয়তার কারণে কিছু বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সংবাদ- Imported energy accounts for 59% of trade gap অর্থাৎ বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় ৫৯ শতাংশই এখন জ্বালানি আমদানির কারণে তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমবার। এতে বোঝা যায়, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ২২ বিলিয়ন ডলার থেকে কিছুটা কম। তবে এই ঘাটতির বড় অংশই তেল ও গ্যাস আমদানির ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে।
এমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতির প্রতি এক ডলারের প্রায় ৬০ সেন্ট বিদেশি জ্বালানি কেনায় ব্যয় হচ্ছে। এই ব্যয়কে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এতে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়মিতভাবে দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনটি ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে। এই জোটের অধিকাংশ দেশই নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম নয় এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো আমদানিনির্ভর থাকায় অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোয় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এ বয়সসীমা কার্যকর। সেই সঙ্গে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধনকল্পে আনীত বিলটিও পাস হয়েছে গতকালের সংসদে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই বিল দুটি আইনে পরিণত হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বিল দুটি গতকাল সংসদে উত্থাপন করেন। সে সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা কণ্ঠভোটে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সংসদে হুবহু তুলে ধরার সুপারিশ দিয়েছিল বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে চারটি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরো শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে দেশে লোডশেডিং বেড়ে জনজীবনে নতুন ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে তা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানির মজুদও কমে এসেছে।
বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া, ভর্তুকির ঘাটতি এবং জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অফিস সময় পরিবর্তনসহ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে, যেখানে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও অপচয় কমানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

টাইমস অফ বাংলাদেশের একটি খবর Chocolate market transforms অর্থাৎ বাংলাদেশের চকলেট বাজার গত এক দশকে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
একসময় যেখানে বাজারটি প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ছিল, এখন সেখানে স্থানীয় উৎপাদকদের আধিপত্য তৈরি হয়েছে।
আগে চকলেট ছিল মূলত বিদেশি ব্র্যান্ডের বিলাসপণ্য, যা বিশেষ উপলক্ষে খাওয়া হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের রুচির পরিবর্তনে বাজারের চিত্র বদলে গেছে।
বর্তমানে চকলেট, ক্যান্ডি, চুইংগাম ও ওয়েফারসহ দেশের কনফেকশনারি বাজারের আকার প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা, যা বছরে প্রায় ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। আয় বৃদ্ধি, নগরায়ন এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে চাহিদা বাড়ছে।
এক দশক আগে যেখানে ৮০ শতাংশ পণ্য আমদানি করা হতো, এখন তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ বাজার দখল করে নিয়েছে দেশীয় কোম্পানিগুলো।

নিউ এইজ পত্রিকার খবর- Government renames Pahela Baishakh procession as ‘Baishakhi Shobhajatra’ অর্থাৎ সরকার পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করেছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে উৎসবটিকে সব মানুষের জন্য আরও সর্বজনীন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নতুন নামকরণের মাধ্যমে ‘মঙ্গল’ বা ‘আনন্দ’ শোভাযাত্রা নাম ঘিরে চলমান বিতর্ক নিরসনের চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শেষে সচিবালয়ে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। তারা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে এই শোভাযাত্রা আয়োজন করা হচ্ছে এবং ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
