বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় (Ratna Chatterjee)। ব্যক্তিজীবন তথা রাজনৈতিক কর্মজীবনে পার করে এসেছেন দীর্ঘ কন্টকময় পথ। এতদিন ছিলেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক। তিনি স্পষ্টবক্তা, জনসংযোগে আত্মবিশ্বাসী। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে অকপট সাক্ষাৎকারে শোভনজায়া রত্না চট্টোপাধ্যায়।

প্রশ্ন: দীর্ঘ পাঁচ বছর বেহালা পূর্বের বিধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। এবার আপনাকে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী করা হয়েছে। এই আসনে বিদায়ী বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী পদ কি কাঁটার মুকুট? লড়াই কতটা কঠিন?

আরও পড়ুন:

উত্তর: লড়াই মোটেও কঠিন নয়। ২০২১ সালে যখন প্রথমবার বেহালা পূর্ব থেকে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন আমি রাজনীতিতে নতুন। বেহালা পূর্ব যেহেতু শোভন চট্টোপাধ্যায় ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, মমতাদি আমাকে ভরসা করে পাঠালেন। তখন কিন্তু কিচ্ছু জানতাম না! আমাদের বাড়িতে আসতেন, এমন কয়েকজন কাউন্সিলর ছাড়া বেশিরভাগকেই চিনতাম না। কিন্তু জিতেছি, পাঁচ বছর কাজ করলাম। কোনওরকমের সমস্যা হয়নি। আপনারা কোনওদিন বেহালা পূর্বের নাম কাগজের শিরোনামে দেখেননি। আমার বাড়ি বেহালা পশ্চিমেই। পাশেই ১২৯-৩০-৩২ ওয়ার্ড, যেখানে আমি কাজ করেছি। ১২৫-১২৮ ওয়ার্ডগুলো অপেক্ষাকৃত কম চেনা। হয়তো বছরে এক-আধবার ব্লাড ডোনেশন বা বস্ত্র বিতরণের জন্য গিয়েছি। বেহালা পূর্ব নখদর্পণে হয়ে গিয়েছিল। বেহালা পশ্চিম আমাকে নতুন করে চিনতে হবে। তবে এতে কোনও ভয় নেই। ‘কাঁটার মুকুট’-এর তো প্রশ্নই নই। যে এমএলএ যাই করে থাকুক, দলটা কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ভোটটাও ওঁর নামেই হয়।

যে-মুহূর্তে বেহালা পূর্বের জায়গায় পশ্চিমে নাম বেরিয়েছে, তখন থেকেই বোধহয় মিস করা শুরু করেছি। কাউন্সিলর হোক বা সাধারণ মানুষ, সকলের সঙ্গে ভীষণ ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। বহু মানুষ সাহায্যের জন্য আসতেন। মনে হচ্ছিল, তাদের ছেড়ে আবার নতুন করে কাজ জানতে হবে, মানুষ চিনতে হবে। কিন্তু দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা মাথা পেতে নেব।

প্রশ্ন: বেহালা পশ্চিমে ১০টি এবং পূর্বে ১১টি ওয়ার্ড। এসআইআর-এর আগে পর্যন্ত তৃণমূলের প্রায় ৩ লক্ষ ১৩ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে বেহালা পশ্চিমে। তবুও মানুষের অভিযোগ, জল জমে। বেহালা মানেই জমা জলের ক্ষেত্রে বেহাল দশা। এসবের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ। এই আসনের প্রার্থী হিসেবে, দুর্নীতির অভিযোগ ও এলাকার অনুন্নয়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তো আসবেই, বিশেষত প্রচারের সময়ে। কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
উত্তর: শিক্ষক নিয়োগে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেটি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে করেছেন। এর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ায়নি। বা তৃণমূল কংগ্রেসের যোগসূত্র নেই। এর জন্য পরবর্তীকালে পার্থদা জেলে গিয়েছেন। নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়ানোর আগে তিনি অনেক কাজই করেছেন। সরকারি টাকাতেই শরশুনা বাসস্ট্যান্ড করেছেন। বিদ্যাসাগর হাসপাতালটা ভালো চলছিল। এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কতগুলো পাম্পিং স্টেশন বানিয়েছেন। রাস্তাগুলো ভালো হয়েছে। এটুকু বলতে পারি, ১৩১ বেহালা পশ্চিমে জল জমে না। আমরা ড্রেনেজ সিস্টেমে ভালোভাবে জল বের করে দিই। ১৩২-এ জল জমে না। ১২৯-এ মহেশতলা বেগোরখালের দিকে জল জমে, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি নেমেও যায়। তবে ১২৫-২৬-এ জমে। দেখুন, কোথাও জল জমে না, তা বলছি না। একসঙ্গে প্রচুর বৃষ্টি হলে, জমে। সেক্ষেত্রে আমরা পাম্পিং করে বের করে দিই। আমি যদি এমএলএ হই, এদিকেও একটা পার্মানেন্ট ব্যবস্থা করব।

প্রশ্ন: বিদ্যাসাগর হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করার কথা বলছেন। বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক হলে প্রথমেই কী কী করতে চান?
উত্তর: বিদ্যাসাগর হাসপাতাল আমার ওয়ার্ডের লাগোয়া। তাই ওখানকার অবস্থা আমি খুব ভালো জানি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, কোনও গন্ধ নেই। রোগীরা পরিষ্কার বিছানায় শুয়ে আছে। ওদের অনেক ইকুপমেন্টও রয়েছে। কিন্তু অর্থোপেডিকের ডাক্তার নেই! হার্টের ভালো ডাক্তার নেই। হার্টের পেশেন্ট নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই বলে চিত্তরঞ্জনে নিয়ে যান, পিজিতে নিয়ে যান! আমি রেফার করে দেওয়া পছন্দ করি না। বেহালা পূর্ব-পশ্চিম মিলে একটাই সরকারি হাসপাতাল। মহেশতলা-আমতলা-পৈলান-জোকা-ঠাকুরপুকুর-ডায়মন্ড হারবারের মানুষও এখানে আসেন। কিন্তু এখানে আইসিইউ নেই। আমি চাই, এমন ব্যবস্থা করতে যাতে বেহালা ছাড়াও অন্যান্য বিধানসভার মানুষ এখানে এসে পরিষেবা পান।

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Ratna ChatterjeeWest Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Ratna Chatterjee

প্রশ্ন: শোভন চট্টোপাধ্যায়-পরবর্তী সময়ে বেহালা পূর্বের দায়িত্ব সামলেছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন কারাবন্দী, তখনও বকলমে আপনি দুটো কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজ-হাতে সাজানো এই বেহালা পূর্ব, এখানকার মানুষকে মিস করবেন না?
উত্তর: যে মুহূর্তে বেহালা পূর্বের জায়গায় পশ্চিমে নাম বেরিয়েছে, তখন থেকেই বোধহয় মিস করা শুরু করেছি। কাউন্সিলর হোক বা সাধারণ মানুষ, সকলের সঙ্গে ভীষণ ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। বহু মানুষ সাহায্যের জন্য আসতেন। মনে হচ্ছিল, তাদের ছেড়ে আবার নতুন করে কাজ জানতে হবে, মানুষ চিনতে হবে। কিন্তু দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা মাথা পেতে নেব। অনেকেই ভেবেছিলেন, আমাকে হয়তো মহেশতলা আসনে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ভাইয়ের ওপর ভরসা রেখেছেন। আসলে আমার কাছে কেন্দ্র ম্যাটার করে না, কাজটাই ম্যাটার করে।

প্রশ্ন: বেহালা বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসেকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইস্যুও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিজের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা নিশ্চিত?
উত্তর: আমি ওয়ান থাউজেন্ড পারসেন্ট নিশ্চিত। ১৯৮৪ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথমবার যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন, তখন বেহালা পূর্ব-পশ্চিম যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই ছিল। এখন দক্ষিণ কলকাতা হয়েছে। তখন থেকেই বেহালার প্রতি মমতাদির এক আলাদা আবেগ রয়েছে। লোকসভা, পৌরসভা, বিধানসভা— যাই হোক না কেন, শেষ প্রচারটি তিনি সবসময় বেহালা চৌরাস্তায় করেন। মঞ্চ থেকেই বলেন, ‘বেহালার মাটিকে প্রণাম করে আমি ঘরে ঢুকি’। ওঁর কাছে হয়তো এই মাটি ‘পয়া’। এখানকার মানুষ ওঁকে নিজের ঘরের মেয়ে হিসেবে ভালোবাসে। বেহালা পূর্বে এক-দু’বার হারলেও, বেহালা পশ্চিম বরাবর মমতাদিকে আশীর্বাদ করে গিয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার বিপক্ষে বিজেপি থেকে দাঁড়িয়েছেন ডক্টর ইন্দ্রনীল খাঁ। অন্যদিকে বামেদের প্রার্থী নিহার ভক্ত, যিনি আগেও এই কেন্দ্রে লড়েছেন। সেক্ষেত্রে কঠিন প্রতিপক্ষ কে? নাকি কেউ নয়?
উত্তর: যদি এক কথায় বলতে বলেন, তাহলে কেউই না! কিন্তু যদি বুঝিয়ে বলতে বলেন, নিহার তো একেবারেই নয়। ২০২১ সালে ও দাঁড়িয়েছিল, তখন তৃণমূল বা বিজেপির তুলনায় অনেক কম ভোট পেয়ে হেরেছিল। কারণ বেসিক্যালি, পশ্চিমবঙ্গে বামেরা এখন ‘জিরো’ হয়ে গিয়েছে। ‘জিরো’ থেকে ‘হিরো’ হতে ওদের এখনও অনেকগুলো বছর লাগবে। ডক্টর ইন্দ্রনীল খাঁ পেশায় অঙ্কোলজিস্ট। শুনেছি ভালো ডাক্তার। ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কিন্তু পেশা আর রাজনীতি তো আলাদা। রুগী দেখা আর এত বড় বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের এত মানুষকে দেখা তো এক নয়। মানুষ কী চাইছে, তা এখনও ইন্দ্রনীল খাঁ রপ্ত করতে পারেননি বলেই আমার ধারণা।

শোভনবাবু আমার থেকে ভালো রাজনীতিবিদ অবশ্যই। কিন্তু আমার মতো ভালো জনসংযোগ ওঁর ছিল না। আমাকে প্রত্যেকটা মানুষ আলাদাভাবে চেনে। ঘরের মেয়ের মতো ভালোবাসে। দুই হাতে আশীর্বাদ করে। এই একটা জায়গায় ওঁ পিছিয়ে!

প্রশ্ন: এই মুহূর্তে যে-ঘরে বসে আপনার সাক্ষাৎকার নিচ্ছি, এখনও তার প্রতিটি দেওয়ালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনার এবং আপনাদের সন্তান ঋষির বহু ফটো সাজানো রয়েছে। ‘শোভন-রত্না-বৈশাখী’ মানেই তো হট টপিক! টিআরপি তুঙ্গে! সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও করতে পারলেই হিট! এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে শোভনবাবুকে কতটা মিস করছেন?
উত্তর: সত্যি বলতে, শোভনবাবু চলে যাওয়ার পরের দুই-তিন বছর খুবই মিস করতাম। ২২ বছর ধরে সংসার করা, ছেলেমেয়েদের মানুষ করা তো সামান্য ব্যাপার নয়। শোভনবাবু শুধু কাউন্সিলর ছিলেন, যখন ওঁকে আমি বিয়ে করি। যখন চলে যান, তখন তিনি মেয়র এবং মন্ত্রী। ততদূর পৌঁছে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আজ হয়তো শোভনবাবু সেসবই অস্বীকার করবেন। বলেওছেন অনেক জায়গায়, আমি না-কি ঘুরে বেড়াতাম, সংসার দেখতাম না। আমার মেয়ে আজকে ইংল্যান্ডে ব্যারিস্টারি পড়ছে। আমার ছেলে বিজনেস দেখছে, পাশাপাশি গান গায়। সে-জগতে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। প্রথম কয়েক বছর খুবই কষ্ট হয়েছে। ঘরের ভিতর একটা মানুষ হুট করে নেই! আমরা চারজন ছিলাম। আট-নয় বছর পরে আমি ওঁকে মিস করি না। এখন আমার একা থাকাই অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। একা থাকতেই বরং ভালো লাগে। সারাদিন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, ইন্টারভিউ-প্রচারের ব্যস্ততা শেষে রাতে যখন নিজের ঘরে আসি, তখন মনে হয় আর কেউ না, এবার একটু নিজেকে সময় দিই।

প্রশ্ন: মাঝে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে শোভন চট্টোপাধ্যায় আবার তৃণমূলে ফিরছেন। শোনা যাচ্ছিল, বেহালা পূর্ব অথবা পশ্চিমে আবারও তাঁকে টিকিট দেওয়া হতে পারে। তাঁকে টিকিট দেওয়া হল না। বরং হিডকোর চেয়ারম্যান করে দেওয়া হল। শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও তৃণমূলে ফিরতে পারে, বা আপনি টিকিট না পেতে পারেন শুনে কী মনে হয়েছিল? মনখারাপ লেগেছিল?
উত্তর: আমি চাই, শোভনবাবু রাজনীতি করুন, কারণ পলিটিক্সটা ভালো বুঝতেন। ভালোভাবে মেয়রশিপ চালিয়েছেন। কিন্তু অনেক বছর পর যখন ওরা আবার জয়েন করল, তখন মনে হয়েছিল যে একটা জায়গা তো আমি গুছিয়ে এনেছি। জনসংযোগ করছি। শোভনবাবু আমার থেকে ভালো রাজনীতিবিদ অবশ্যই। কিন্তু আমার মতো ভালো জনসংযোগ ওঁর ছিল না। আমাকে প্রত্যেকটা মানুষ আলাদাভাবে চেনে। এই একটা জায়গায় উনি পিছিয়ে!

প্রশ্ন: অনেকের মতেই শোভনবাবুর তুলনায় আপনার মিডিয়া পিআর বা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগও অত্যন্ত ভালো। সেটা কি একটা বাড়তি ফ্যাক্টর? 
উত্তর: সে হতে পারে। শোভনবাবুকে কেন টিকিট দেওয়া হল না, সেটা একমাত্র মমতাদি ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। আমি এখন আর ওদের সম্পর্কে খবর রাখি না। আমি এখন শান্তিতে আছি। ছেলেমেয়েদের দাঁড় করিয়েছি। যে সময় গত সাত-আট বছর ধরে গিয়েছে, তা আর ফিরে চাই না।

প্রশ্ন: মামলা জেতার পর আপনি বলেছিলেন, শোভনবাবু যদি আবার আপনাদের সংসারে ফিরে আসতে চান, তবে তাঁকে আবার জায়গা দেবেন আগের মতোই। আপনার নির্বাচনী প্রচারে কি কোনওভাবে শোভনবাবুকে যুক্ত করার কথা ভেবেছেন?
উত্তর: আমি আজও বলছি, শোভনবাবু যদি কোনওদিন ফিরে আসেন, যদি ওঁর মনে হয় আগের জায়গাতেই ভালো ছিলাম, ছেলে-বৌ নিয়ে সংসার করব, আমার ঘরের দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে। আমি আজও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছি। উনি হয়তো মিডিয়াকে উলটো কথা বলবেন। তা যদি না চাইতাম, ঘরভর্তি ছবি রাখতাম না! বাড়ির নিচেরতলার একটা ঘর আজও পুরোপুরি সেসব ছবি-মেমেন্টো দিয়েই সাজানো। ওঁকে চোখে দেখব না, এমন মনে হয় না আমার। অনেকেই বলেছে এসব সরিয়ে দিতে। আমি বলেছি, এটা ওঁর বাড়ি। সেখান থেকেই ওঁর ছবি সরিয়ে দেব, এমন আস্পর্ধা আমার নেই। দিনের শেষে তো শোভনবাবু আমার স্বামী। ডিভোর্স মামলায় জিতে গেলেও তাই। তবে ভোটের প্রচারে কোনওদিন আমিও ডাকব না, উনিও আসবেন না।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *