সবুজ বা সাদা—যে কোনও ধরনের শিমই অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই শিম নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের নানা সমস্যা দূরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিমে থাকা ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্কের নার্ভের চাপ কমাতে সাহায্য করে। ফলে অনিদ্রার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। পাশাপাশি, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থেকে যে অবসাদ বা ডিপ্রেশনের আশঙ্কা থাকে, তা কমাতেও শিম কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে শিম একেবারেই অনন্য। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, সি ও কে। এছাড়াও পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, দস্তা ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ক্যারোটিন, লিউটেন ও জিয়াজ্যান্থিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং ফুসফুস ও মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শিমে থাকা ফলিক অ্যাসিড ভ্রূণের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, ভিটামিন সি ও কে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফাইটোস্টেরল রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডায়েটারি ফাইবার হজমশক্তি বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়।

হৃদযন্ত্রের সুস্থতায়ও শিম গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, আর ভিটামিন সি ধমনীর ক্ষত মেরামত করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও শিমের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা লোহা, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ বোন মিনারেল ডেনসিটি বাড়ায়, ফলে অস্টিওপরোসিসের আশঙ্কা কমে। নিয়মিত শিম খেলে হাড় মজবুত হয় এবং হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমে।

এছাড়া, শিম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডায়েটারি ফাইবার গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। একই সঙ্গে এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার কোষ তৈরির ঝুঁকিও কমাতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, শিমে ক্যালরি ও ফ্যাটের পরিমাণ কম হওয়ায় এটি ওজন কমানোর ডায়েটেও অত্যন্ত উপযোগী।

উল্লেখ্য, প্রাচীন মিশরেও শিমকে অত্যন্ত পবিত্র খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হত। ফারাওদের সমাধিতে শিমের উপস্থিতির প্রমাণও মিলেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় এর চাষ শুরু হলেও পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই পুষ্টিকর সবজি।

সব মিলিয়ে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় শিম রাখলে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া সম্ভব—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *