ছাব্বিশের নির্বাচনে আসনসংখ্যার টার্গেট কমিয়ে ফেললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ! একুশের ভোটে ২০০ পারের স্লোগান দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত এবছর দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখলের টার্গেট দিচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, রাজ্যে অন্তত ১৭৭ আসন জিতবে বিজেপি। সেখান থেকে ১৭০-এ নামলেন শাহ। বৃহস্পতিবার হাজরার রোড শো-র আগে শাহ বলেন, “এবার বাংলায় ১৭০ আসন হবে। তবেই পরিবর্তন হবে।”

এই বিষয়ে আরও খবর

অর্থাৎ, রাতারাতি টার্গেট থেকে সাত আসন কমিয়ে দিলেন শাহ। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বিজেপি কর্মীরা কিছুটা হতাশ। এর আগে একুশে ২০০-র টার্গেট দিয়ে ৭৭-এ থেমে গিয়েছিল বিজেপি। পরবর্তীতে সেই আসন সংখ্যা আরও কমে যায়। আসন সংখ্যার টার্গেট বিভ্রান্তি নিয়ে কর্মীদের মধ্যেই প্রশ্ন, একুশের মতো আবার ‘রিপিট টেলিকাস্ট’ হবে না তো?

বঙ্গ বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল বহু পুরনো রোগ। কেন্দ্রীয় নেতারা যখন ২০০ আসনের কথা বলেন, তখন অতি আত্মবিশ্বাসের জেরে ‘বিক্ষুব্ধ’ নেতারা আরও নিষ্ক্রিয় হতে পারেন।

কিন্তু কেন এভাবে টার্গেট কমাচ্ছে বিজেপি? সেটা কি শুধুই ফলাফলের আগাম আভাস পেয়ে নাকি নেপথ্য়ে কোনও কৌশল রয়েছে? বস্তুত ২০২১ সালে ২০০ পারের স্লোগান দিয়ে পরে বেশ ভালোরকম মুখ পুড়েছে গেরুয়া শিবির। ফলে এবার আগে থেকে বেমক্কা কোনও টার্গেট দিয়ে পরে অস্বস্তিতে পড়তে চায় না গেরুয়া নেতৃত্ব। বস্তুত শাহও খুব ভালো করে জানেন, বাংলায় খুব ভালো ফল হলেও ২০০ দুরূহ। এ রাজ্যের যা জনবিন্যাস তাতে বিজেপির পক্ষে ২০০ আসন পাওয়া একপ্রকার অসম্ভব। ফলে বারবার ২০০-২০০ বললে কর্মীদের কাছে সেটা অবাস্তব ও অলীক কল্পনা মনে হতে পারে। বরং ১৭০ আসনের টার্গেট অনেক বেশি বাস্তবসম্মত এবং বিশ্বাসযোগ্য। যা কর্মীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারে।

তাছাড়া অতীতে একাধিক নির্বাচনে দেখা গিয়েছে অতিরিক্ত টার্গেট দিয়ে শেষে হীতে বিপরীত হয়েছে। আসলে বেশি টার্গেট দিলে অনেক সময় কর্মীদের মধ্যে অতি আত্মবিশ্বাস দেখা যায়। ‘জিতে গিয়েছি’ এই মনোভাব তৈরি হয়। ফলে মাঠে-ময়দানে লড়াই করার মানসিকতা হারিয়ে যায়। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে যেটা হয়েছিল বিজেপির ক্ষেত্রে। ৪০০ পারের স্লোগান দেওয়া গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা নিজেদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে বহু বিজেপি কর্মী স্রেফ অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ফলাফল মাত্র ২৪০ আসনে আটকে যাওয়া। যা কস্মিনকালেও ভাবতে পারেনি গেরুয়া শিবির। বাংলার ক্ষেত্রে তেমন যেন না হয়, তাই সতর্ক শাহ। তাছাড়া বঙ্গ বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল বহু পুরনো রোগ। কেন্দ্রীয় নেতারা যখন ২০০ আসনের কথা বলেন, তখন অতি আত্মবিশ্বাসের জেরে ‘বিক্ষুব্ধ’ নেতারা আরও নিষ্ক্রিয় হতে পারেন। বরং লড়াই কঠিন, এই বার্তা দেওয়া গেলে নিজেদের দ্বন্দ্ব ভুলে একজোট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

শাহর এই আসনের টার্গেট কমানো প্রসঙ্গে অবশ্য পালটা কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলাকে লাগাতার বঞ্চনা, এসআইআর-সহ নানা ইস্য়ুতে যে নির্বাচনের আগেই বিজেপিরে আত্মবিশ্বাস ভেঙে গিয়েছে, সে কথাই মনে করাচ্ছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “আগের বার বলেছিলেন, আব কি বার ২০০ পার। ৭৭-এ এসে থেমে গিয়েছিল। আজকে বলছেন ১৭০ পেলেই পরিবর্তন। আপনি অনুপাতে ফেলে দিন। নিশ্চিত পরাজয় বুঝে গিয়েছেন। তাই মুখ রক্ষায় প্ররোচনামূলক কথা বলে বেড়াচ্ছেন। এবং সমস্তরকম হাঁকডাক দিয়ে কাজ করছেন।”

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *