মুখেই শুধু ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলছে কেন্দ্রীয় সরকার। নামেই স্কুলশিক্ষায় দ্বাদশ শ্রেণি অবধি পারফর্মিং আর্টের নানা বিষয় আবশ্যিক করেছে। আদতে শিল্পীদের মর্যাদা দিচ্ছে কোথায়? পারফর্মিং আর্টিস্টদের অনুদান বন্ধ করে দিয়ে তাঁদের কার্যত রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র। বাংলার শিল্পীদের প্রতি কেন এই বঞ্চনা? এমনই অভিযোগ তুললেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল থিয়েটার কমিউনিটি’র আহ্বানে আয়োজিত নাট্যকর্মী ও পারফর্মিং আর্টিস্টরা। কেন্দ্রীয় সরকার নৃত্য, নাটক, থিয়েটার, মাইম, পাপেট থিয়েটারের কেন্দ্রীয় অনুদান বাতিল করেছে।
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে একটি সার্কুলার প্রকাশ করে যেখানে স্যালারি গ্রান্ট বা গুরু-শিষ্য পরম্পরার অন্তর্গত প্রায় দু’হাজার শিল্পীর ভবিষ্যৎকে আচমকাই সংশয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দেশজুড়ে সংস্কৃতির প্রসারের উদ্দেশে গত ৬০ বছরের এই অনুদান দিত কেন্দ্র। এতদিন এক-একটি দলের গুরুর জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা ও শিষ্যদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দিত সরকার।
আরও পড়ুন:
আগামী ৯ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরোধিতায় তপন থিয়েটার থেকে প্রতিবাদ মিছিল করবেন শিল্পী-সদস্যরা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই অর্থ গ্রুপের সদস্যরা ভাগ করে নিতেন। সেইটুকু অর্থও আর পাওয়া যাচ্ছে না। একে-একে বহু দল অনুদান প্রাপ্তির তালিকা থেকে বাদ হয়েছে। এই বছর একটিও দল পায়নি।নাট্যব্যক্তিত্ব পৌলোমী বসু প্রশ্ন তুলেছেন, “পৃথিবীর সমস্ত সভ্য দেশে আর্টিস্টদের সাপোর্ট করা হয়। তা না হলে শিল্পী নিজেকে শিল্পের প্রতি সমর্পণ করে সেরাটা দেবে কী করে?”
নটধা নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য তথা অভিনেতা অর্পণ ঘোষাল জানালেন, “গত বেশ কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্র গুরু-শিষ্য পরম্পরা অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছিল। এবার কোনও কারণ না জানিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দিল। এর ফলে নতুন প্রজন্মের ছে—লেমেয়েরা যারা পারফর্মিং আর্টের সঙ্গে যুক্ত এবং এখনও সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি তারা খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে আছে।”
এই আন্দেলনকে কোনও রাজনৈতিক রং না লাগাতে নারাজ এই কমিউনিটির সদস্যরা।
কেন হঠাৎ শিল্পীদের অনুদান বন্ধ করা হচ্ছে? জানতে চেয়ে বহু বার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন থিয়েটার অভিনেতা বিমল চক্রবর্তী। উত্তর না পাওয়ায় এবার সরাসরি দিল্লি যাবে ওয়েস্ট বেঙ্গল থিয়েটার কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। তার আগে আগামী ৯ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরোধিতায় তপন থিয়েটার থেকে প্রতিবাদ মিছিল করবেন শিল্পী-সদস্যরা।
এই আন্দেলনকে কোনও রাজনৈতিক রং না লাগাতে নারাজ এই কমিউনিটির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য পরিচালক সৌমিত্র মিত্র, সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, পরিচালক প্রবীর গুহ, থিয়েটার ব্যক্তিত্ব অসিত বসু-সহ বিশিষ্টরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
