একেবারে শেষ মুহুর্তে আচমকা স্থগিত হয়ে গেল প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সেই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া। ১ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইন্টারভিউ আপাতত স্থগিত করার কথা জানালেও ইন্টারভিউ স্থগিতের নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। ফলে ১৩ হাজার ৪২১ শূন্যপদে নিয়োগ করা কবে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আগামী ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে জুন মাস পর্যন্ত রাজ্যর বিভিন্ন বাংলা মাধ্যমের সরকারি, সরকার পোষিত ও জুনিয়র বেসিক স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ ও ভাইভা ভয়েজ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
গত ১২ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, ৬ ও ১০ এপ্রিল পুরুলিয়া, ১৬,১৭, ২০-২৪ এপ্রিল, ২৭-৩০ এপ্রিল বাঁকুড়া, ৫-৮ মে আলিপুরদুয়ার ও দক্ষিণ দিনাজপুর, ১২-১৫ মে আর ১৯-২২ মে মালদহ ও পশ্চিম বর্ধমান আর ২৮-২৯ মে ও ২-৫ জুন বীরভূম জেলায় ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যায়ের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলবে। এর আগে প্রথম থেকে চতুর্থ দফার ইন্টারভিউ শেষ হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলার ইন্টারভিউ শুরু হয়। পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ গত ১৯ মার্চ শেষ হয়। গত ২৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার জন্য ইন্টারভিউ হয়।
পর্ষদ সূত্রে খবর, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে যাতায়াতের অসুবিধা হতে পারে। বহু চাকরিপ্রার্থী পর্ষদে একথা জানিয়েছেন। তাঁদের কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর ফের হতে পারে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া।
২০২২ সালে শেষবারের জন্য প্রাথমিক নিয়োগ হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন ২০১৪ ও ২০১৭-এর টেট পাশ চাকরিপ্রার্থীরা। তবে এর মধ্যে ২০২২ ও ২০২৩-এর টেট উত্তীর্ণ এবং ডিএলএড প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা নিয়োগে অংশ নিতে পারেননি। প্রায় ৩ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১৩ হাজার ৪২১ জনের নিয়োগের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
