পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫২ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতর এসআইআর সংক্রান্ত নবম তালিকা (অষ্টম অতিরিক্ত তালিকা) প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় নতুন করে প্রায় তিন লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এখনও প্রায় ৮ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অর্থাৎ ৬ এপ্রিলের আগেই এই সমস্ত নামের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিলেন। বর্তমানে ৭০৫ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ধাপে ধাপে সেই তালিকার নিষ্পত্তির কাজ করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অতিরিক্ত তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী গত ২৩ মার্চ রাত থেকেই নতুন তালিকা প্রকাশ শুরু হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, বিচারকদের দেওয়া তথ্য যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগছে। তারপরই তা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের তালিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মালদহের কালিয়াচকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারকদের ঘেরাও করার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া একদিকে যেমন প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। এখন নজর ৬ এপ্রিলের আগে বাকি নামগুলির নিষ্পত্তি কতটা সম্ভব হয় তার উপর।
