দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ভারতে ইন্টারনেট সংযুক্ত সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাজারে বিক্রির আগে প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরাকে সরকারের নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে Standardisation Testing and Quality Certification ফ্রেমওয়ার্ক, যা ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সিসিটিভি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ক্যামেরায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, বিশেষ করে প্রসেসর বা System-on-Chip (SoC)-এর উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে।
সরকারি পরীক্ষায় ক্যামেরাগুলির এনক্রিপশন প্রযুক্তি, হার্ডওয়্যারের উৎস, ফার্মওয়্যার এবং ডিভাইসের সুরক্ষা ক্ষমতা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এই ক্যামেরার ডেটা দূর থেকে অ্যাক্সেস করা যায় কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। যে সব পণ্য এই পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে না, সেগুলি ভারতে বিক্রি করা যাবে না।
চিনের সংস্থাগুলির উপর বড় প্রভাব
এই নতুন নিয়মের ফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চিনের একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের উপর। যেমন Hikvision, TP-Link এবং Dahua Technology। এতদিন ভারতীয় বাজারে এই সংস্থাগুলির দাপট ছিল উল্লেখযোগ্য।
বর্তমান ব্যবহারকারীদের কী হবে?
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলির উপর কোনও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ, বাড়ি বা ব্যবসায় ব্যবহৃত ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাবে না বা বাজেয়াপ্তও করা হবে না। তবে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেট বা সার্ভিস পরিষেবায় কিছু প্রভাব পড়তে পারে।
দাম বাড়তে পারে?
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে বাজারে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্তমানে দেশীয় সংস্থাগুলি যেমন CP Plus, Prama, Quobo, Matrix এবং Sparsh উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ দখল করেছে। তবে নতুন নিয়ম মেনে চলার অতিরিক্ত খরচ এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বিশেষ করে মাঝারি ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টে ক্যামেরার দাম বাড়তে পারে।
নিরাপত্তা বনাম বাজার—দুইয়ের ভারসাম্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে একই সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা ও দামের উপর এর প্রভাব পড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।
