নাপোলি থেকে ধারে তুরস্কের ক্লাব গ্যালাতাসারেতে খেলতে গিয়েছিলেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ভিক্টর ওসিমেন। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে দলে টানতে উঠেপড়ে লাগে ক্লাবটি। শেষপর্যন্ত তুরস্ক ফুটবলের রেকর্ড সাড়ে ৭ কোটি ইউরো খরচ করে তারকা স্ট্রাইকারকে রেখে দেয়া হয়। এই সফলতার পেছনে যেমন গল্প আছে, তেমনি আরেক অজানা গল্প তুলে ধরলেন ওসিমেন। জীবনের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা ও মানসিকতার গুরুত্ব নিয়ে বার্তা দিয়েছেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে ২৭ বর্ষী তারকা জানালেন, ছোটবেলার এক বন্ধুকে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সহায়তা করে আসছিলেন। সেই বন্ধু একটি ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা জানালে, ওসিমেন তাকে ৫ হাজার ইউরো পাঠান যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সাহায্য পাওয়ার পর কৃতজ্ঞ হওয়ার পরিবর্তে ওই বন্ধুর প্রতিক্রিয়া তাকে বিস্মিত ও হতাশ করে।

ওসিমেনের ভাষ্যে, বন্ধু মনে করেছিল তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ ইউরো আয় করেন। সেই ধারণা থেকে ৫ হাজার ইউরোকে অপ্রতুল মনে করে ৫০ হাজার ইউরো প্রত্যাশা করেছিলেন। এই আচরণে হতাশ হয়ে ওসিমেন বলেন, তিনি একপর্যায়ে অর্থ ফেরত নেয়ার কথাও ভেবেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা আর সম্ভব হয়নি।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ইউরোপে ৫ হাজার ইউরো হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয় বলে মনে হতে পারে, কিন্তু নাইজেরিয়ার মতো দেশে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্থ, যা দিয়ে একটি ছোট ব্যবসা সহজেই শুরু করা সম্ভব।

অতীত জীবনের সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেছেন তারকা স্ট্রাইকার। জানালেন, ইউরোপে পাড়ি জমানোর আগে কেউ তাকে আর্থিক সহায়তা করেনি। কঠিন সময়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য তাকে রাস্তায় বোতলজাত পানি বিক্রি করতে হয়েছে এবং দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়েছে স্বপ্ন পূরণের জন্য।

ওসিমেন শেষে বলেন, ‘মানুষের উচিত যে কোন সাহায্য বা উপহারকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করা। অতিরিক্ত প্রত্যাশা বা অধিকারবোধ মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়।’

২০২০ সালে ফরাসি ক্লাব লিল থেকে নাপোলিতে যোগ দেন ওসিমেন। ২০২২-২৩ মৌসুমে নাপোলির স্কুদেত্তো জয়ে রাখেন বড় ভূমিকা। দলকে ৩৩ বছর পর লিগ শিরোপা জেতানোর পথে ৩২ ম্যাচে ২৬ গোল করেন। ২০২৩ সালে নির্বাচিত হন আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *