আইএসএলের মঞ্চে একতরফা দাপট দেখিয়ে বড় বার্তা দিল ইস্টবেঙ্গল। সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মহমেডান স্পোর্টিংকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু জয়েই ফিরল না, গড়ল নতুন রেকর্ডও।

এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে উঠে এল লাল-হলুদ। ৬ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১১ পয়েন্ট। পাশাপাশি চলতি মরশুমে সর্বাধিক গোলের তালিকাতেও শীর্ষে উঠে এল তারা—৭ ম্যাচে ১৬টি গোল করে।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই

খেলার প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল। শুরুতেই একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট হলেও ৬ মিনিটে আনোয়ার আলির দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় দল।

১২ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েলকে বক্সে ফেলে দেওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ইউসেফ এজেজারি।

৩৪ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন সাউল ক্রেসপো। একই ঘটনায় মহমেডানের জোসেফ আদজেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ম্যাচের মাঝামাঝি সময়েই ১০ জনে নেমে আসে মহমেডান।

ছবি-সঞ্জয় হাজরা

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা

দ্বিতীয়ার্ধেও একই তালে আক্রমণ চালিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
৫৩ মিনিটে তৃতীয় পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এজেজারি।

এরপর যেন গোলের ধারা বয়ে যায়—

  • ৭৪ মিনিটে পিভি বিষ্ণুর গোল
  • আনোয়ার আলির দ্বিতীয় গোল
  • শেষদিকে নন্দকুমারের দুরন্ত শটে সপ্তম গোল

পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট আধিপত্য

ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের দাপট বোঝাতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট— তারা পেয়েছে ২০টি কর্নার, যেখানে মহমেডান পায়নি একটিও।

কোচের চিন্তার জায়গা

এত বড় জয়ের মধ্যেও কিছু খামতি রয়ে গিয়েছে। সহজ সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা চোখে পড়েছে বারবার। এজেজারি, লালানসাঙ্গা, বিষ্ণুদের একাধিক সুযোগ হাতছাড়া ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি-সঞ্জয় হাজরা

রেকর্ডের খাতায় নাম

এই ৭-০ জয় আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় জয়। একই সঙ্গে এটি লিগের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। এর আগে ২০১৫ সালে মুম্বই সিটিকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল এফসি গোয়া।

সব মিলিয়ে, আক্রমণাত্মক ফুটবল ও গোলের বন্যায় সমর্থকদের আনন্দে ভাসাল ইস্টবেঙ্গল। তবে সামনে কঠিন ম্যাচে সুযোগ নষ্টের প্রবণতা কাটানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ লাল-হলুদের জন্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *