উত্তর কোরিয়ার ২০২৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবারও বিপুল জয়ের দাবি করলেন দেশের শাসক কিম জং উন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-র দাবি, কিমের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এবং তাদের মিত্ররা পেয়েছে ৯৯.৯৭% ভোট এবং সংসদের সব আসনেই জয়লাভ করেছে।
১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচন করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটদানের হার ছিল ৯৯.৯৯%। মাত্র ০.০০৩৭% ভোটার বিদেশে বা সমুদ্রে কাজের কারণে ভোট দিতে পারেননি এবং মাত্র ০.০০০০৩% ভোটার ভোটদানে বিরত ছিলেন বলে দাবি।
তবে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে ০.০৭% ‘বিরোধী’ ভোট। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৯.৯৩% ভোটার প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর ০.০৭% ভোট গেছে বিপক্ষে—যা উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থী থাকেন। ফলে এই প্রক্রিয়াকে বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ‘শো ইলেকশন’ বলেই উল্লেখ করেছেন। এ বার মোট ৬৮৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে শ্রমিক, কৃষক, সেনাকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সরকারি আধিকারিকরা রয়েছেন।
নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং, যিনি কাল্লিমগিল কনস্টিটুয়েন্সি নম্বর ৫ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে, ০.০৭% বিরোধী ভোট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “০.০৭% মানুষের জন্য এক মিনিট নীরবতা।” আবার কেউ মজা করে বলেছেন, “ওই ০.০৭% কারা, নাম প্রকাশ করুন!”
সব মিলিয়ে, উত্তর কোরিয়ায় প্রায় সর্বসম্মত জয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও, ক্ষুদ্র এই বিরোধী ভোটই এবার আন্তর্জাতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে।
