মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বাংলার কৃষিপণ্য রপ্তানি কার্যত বড় ধাক্কা খেয়েছে। বিমান পরিষেবা বন্ধ হওয়া এবং কার্গো ভাড়া এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে সবজি পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে—রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে কি স্থানীয় বাজারে সবজির দাম কমতে পারে?
রপ্তানিকারকদের মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ সবজি বিদেশে পাঠানো হয়। কলমি শাক, লাউ, সিম, উচ্ছে, কচুর মুখী, পটল, করলা, কাঁচালঙ্কা—এই সব পণ্যের বড় বাজার রয়েছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দোহা, দুবাই, কাতার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় রপ্তানি কার্যত থমকে গেছে।
এর পাশাপাশি পরিবহণ খরচও আকাশছোঁয়া। আগে যেখানে এক কেজি কৃষিপণ্য বিদেশে পাঠাতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ টাকায়। ফলে অধিকাংশ রপ্তানিকারকই আপাতত পণ্য পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ বিদেশে পাঠানো না গেলে সেই পণ্য স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করতে হবে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে দামে চাপ পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে কৃষি বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, সবজির দাম কমবে কি না তা নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর। যদি দীর্ঘদিন রপ্তানি বন্ধ থাকে, তা হলে বাজারে সরবরাহ বাড়ার ফলে কিছু সবজির দাম কমতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে সেই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় সংস্থা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্রসেসড ফুড প্রোডাক্ট এক্সপোর্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটি (এপেডা) দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করে। বৈঠকে উপস্থিত রপ্তানিকারকেরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কার্গো বিমান চালুর দাবি জানান।
এপেডার আঞ্চলিক অধিকর্তা সীতাকান্ত মণ্ডল জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ কার্গো বিমান চালু করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
রপ্তানিকারকদের আশা, যদি দ্রুত কার্গো পরিষেবা চালু হয়, তা হলে আবার বিদেশে পণ্য পাঠানো শুরু করা যাবে। তবে ততদিন পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব! বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, সিলিন্ডার প্রতি কত?
