Howrah: প্রৌঢ়ার বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার, মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে, মাথা থেঁতলে খুনের অভিযোগ

হাওড়া: বাড়ি বাইরে থেকে তালা দেওয়া। দিন তিনেক ধরে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়ির ভিতর থেকে দুর্গন্ধ আসছিল। শেষমেশ সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির তালা ভাঙতেই শিউরে উঠলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক প্রৌঢ়ার বিবস্ত্র দেহ। মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে ও মাথা থেঁতলে খুনের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানা এলাকার। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত প্রৌঢ়ার দেহ ঘরের মেঝেতে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে ছিল। দেহের এই অবস্থা দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। খুনের পর ঘরের তিনটি দরজাতেই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ওই প্রৌঢ়ার স্বামী ২ বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছেলে বিদেশে থাকেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মেয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি যাননি। দিন তিনেক ধরে নিখোঁজ ছিলেন। পাড়ার লোকেরা দুর্গন্ধ পেয়ে খতিয়ে দেখতে গিয়েই বিষয়টা জানা যায়।

এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা এসে দেখেন, বাড়ির বাইরে থেকে তিনটি দরজাই তালা বন্ধ। বেলা ১২টা নাগাদ বাড়ি থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানলা দিয়ে উঁকি মারেন। তখনই মেঝেতে বছর ষাটের প্রৌঢ়ার বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বেশ কয়েকদিন আগেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বাইরে থেকে তালা বন্ধ থাকা এবং মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে দেওয়ার ধরন দেখে পুলিশের অনুমান, এটি কোনও সাধারণ মৃত্যু নয়। বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা একটি পরিকল্পিত ও পৈশাচিক খুন।

​এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কে বা কারা এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। মৃতার মেয়ে বলেন, “সোমবার আমি এসেছিলাম। মা আমাকে বাসস্ট্যান্ডে ছেড়ে এসেছিল। মঙ্গলবার থেকে ফোনে পাইনি। আজকে পাড়ার লোকেদের দেখতে বলি। আমার মাকে খুন করা হয়েছে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *