বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বৈচিত্র্য বা ‘রিস্ক ডাইভার্সিফিকেশন’-এর জন্য সোনার বিকল্প হিসেবে রুপোকে দেখা ঠিক নয়। এমনই মত প্রকাশ করেছেন ডিবিএস ব্যাঙ্কের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার হৌ ওয়েই ফুক। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী নোটে তিনি এই মত তুলে ধরেছেন।

ফুকের মতে, রুপোর চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আসে শিল্পক্ষেত্র থেকে। ফলে অর্থনৈতিক দুর্বলতার সময়ে শিল্প উৎপাদন কমলে রুপোর দাম দ্রুত সংশোধনের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে সোনার ক্ষেত্রে শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও সোনা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল থাকে।

এছাড়াও বাজারের আকারের দিক থেকেও রুপো সোনার তুলনায় অনেক ছোট। ফুক জানান, রুপোর বাজারের আকার প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে সোনার বাজার প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগের অংশটুকু ধরলে এই ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। ছোট বাজারের কারণে রুপোর দামে জল্পনা ও খুচরো বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বেশি পড়ে, ফলে দামের ওঠানামাও বেশি হয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চলতি বছরের শুরুতে বাজারে ধস নামার সময় রুপোর দামে একদিনে ৩০ শতাংশেরও বেশি পতন দেখা গিয়েছিল। একই সময়ে সোনার দাম কমেছিল প্রায় ৯ শতাংশ। এই ধরনের অস্থিরতা রুপোকে ঝুঁকি বৈচিত্র্যের জন্য কম উপযোগী করে তোলে।

আরও পড়ুন: ইরান-চিন তেল বাণিজ্যে ‘ডলারবিহীন চক্র’! যুদ্ধের আবহে ফের আলোচনায় এক রহস্যময় ব্যাঙ্ক

ফুক আরও জানান, নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি। ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বহুদিন ধরেই রিজার্ভ হিসেবে সোনা ধরে রেখেছে। রুপোর ক্ষেত্রে সেই মর্যাদা বা গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেই মত তাঁর।

বুধবার বাজারে মে ডেলিভারির রুপোর ফিউচার্সের দাম ছিল প্রতি কেজি ২,৭১,২০০ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২.২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬২,৯৩১ টাকা, যা বেড়েছে প্রায় ১.১৩ শতাংশ।

ফুকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি মূলত ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির ফল। যুদ্ধের ঝুঁকি, ডি-ডলারাইজেশন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির রিজার্ভ বৈচিত্র্যের প্রবণতা—এই সবই সোনার চাহিদা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে সামরিক পদক্ষেপ ও উত্তেজনার কারণে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম বেড়েছে। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই প্রবণতাকে আরও জোরদার করবে বলেই মনে করছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *