শনিবার প্রথম দফার ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী সাড়ে ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।
এছাড়া প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক নাম ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণা করে, তবে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে বিবেচনাধীন ভোটারদের ভোট দেওয়ায় বাধা নেই। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষণার পর যদি তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে সেই ভোটের বৈধতা কী হবে—তা স্পষ্ট নয়।
আরও বড় প্রশ্ন, কোনও বিধানসভা এলাকায় যদি বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম পরে বাদ যায়, তাহলে কি ফল অমীমাংসিত থেকে যাবে?
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এভাবে এত বিধানসভার মানুষের নাম অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকলে সেখানে ভোট হলেও ফল অমীমাংসিত থেকে যাবে।”
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট সমাধানসূত্র জানানো হয়নি। ভোট ঘোষণার আগে কমিশন কী অবস্থান নেয়, তা নজরে রাখছে রাজনৈতিক মহল।
সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল
এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। সেখানে এই বিষয়টি আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত।
ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী
এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ৬ মার্চ কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ২টো থেকে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, প্রশাসনিক গাফিলতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তে বহু বৈধ ভোটার বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু, পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ।
দলের আরও দাবি, বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন রিচা ঘোষ, আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান, আকবর আলি খোন্দকারের স্ত্রী স্বাতী খোন্দকার, শশী পাঁজা, কাজল শেখ, গোলাম রাব্বানি, কুমারগঞ্জের তোরাফ হোসেন, প্রসেনজিৎ কুণ্ডু এবং সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সায়ন্তন সেন-সহ একাধিক ব্যক্তি।
