ফুলের সুবাসে আর স্পর্শের অনুভূতিতে ভর করে দোল উৎসবকে এক অন্য মাত্রা দিল ‘শারদীয়া’ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। বসন্তের এই রঙের উৎসবে কেমিক্যাল রঙের পরিবর্তে প্রকৃতির সেরা উপহার—ফুল দিয়ে উদ্যাপিত হল ‘ফুলদোল’।
ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর তাদের ফুলদোল উদ্যাপনের দশম বর্ষ। দীর্ঘ এক দশক ধরে ‘লাইট হাউস ফর দ্য ব্লাইন্ড’ স্কুলের প্রায় ৭০ জনেরও বেশি দৃষ্টিহীন শিশুকে সঙ্গে নিয়ে এই বিশেষ উদ্যোগ পালন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের বক্তব্য, দৃষ্টিহীন শিশুদের কাছে বাইরের রঙের গুরুত্ব নেই—তাদের অনুভূতির জগৎ স্পর্শ, গন্ধ ও সুরে সমৃদ্ধ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই ফুল, গান, নৃত্য ও সুরের মাধ্যমে বসন্তকে অনুভব করানোর প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি শ্রী সোমেন কুমার সাহা জানান, “এই উৎসব কেবল আনন্দের নয়, এটি ভালোবাসারও এক অনন্য উদ্যাপন। শিশুদের মনে স্পর্শ ও সুবাসের মাধ্যমে রঙের অনুভূতি জাগিয়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘লাইট হাউস ফর দ্য ব্লাইন্ড’-এর প্রধান শিক্ষক শ্রী অমিত সিংহ। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “শিশুদের জন্য এটি এক বিশেষ দিন। রঙ না দেখেও তারা অনুভূতির মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারে—এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
ফুলের কোমলতা, সুরের আবেশ এবং মানবিকতার স্পর্শে দোল উৎসব পেল এক ভিন্ন ব্যাখ্যা। রঙের পরিবর্তে অনুভূতির এই দোলই যেন হয়ে উঠল ‘শারদীয়া’র ফুলদোলের আসল সার্থকতা।
