সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান কেবল অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; তারা দেশটির সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও শক্ত ভিত্তি জোগাচ্ছে।

রোববার ১ মার্চ সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে এক ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিঙ্গাপুরের সিনিয়র পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি (শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়ন) ড. সৈয়দ হারুন তাদের সম্মানিত অতিথি ও সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রগঠনের সাফল্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রায় ৪৫০ প্রবাসী শ্রমিক ও অতিথির উপস্থিতিতে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের উন্নয়নের ইতিহাসে আপনাদের অবদান অমূল্য।

ড. হারুন আরও বলেন, সিঙ্গাপুরে রমজান শুধু ধর্মীয় অনুশীলনের সময় নয়, বরং এটি বহুজাতিক সমাজে ঐক্যের প্রতীক। প্রবাসী শ্রমিকরা মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম, ইফতার বিতরণ, তারাবি ও কিয়ামুল্লাইল আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ‘দাদাহ ইতু হারাম’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা সহকর্মীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াচ্ছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ‘হিউম্যানিটি ম্যাটার্স’ উদ্যোগের আওতায় গাজার জন্য তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমেও বাংলাদেশি প্রবাসীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। শুধু সিঙ্গাপুরেই নয়, তাদের শ্রম ও আয়ের বড় একটি অংশ রেমিট্যান্স হিসেবে বাংলাদেশে পাঠানো হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন প্রবাসী শ্রমিকরাই। আয়োজকদের একজন জানান, এটি ছিল তাদের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতিনিধি, সামাজিক সংস্থা ও কমিউনিটি নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর উদ্যোগ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, বিদেশে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর—দুই দেশের মধ্যেই সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে চান। তাদের শ্রম, শৃঙ্খলা ও সামাজিক অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে—প্রবাসীরা শুধু অর্থনীতির নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও শক্ত প্রতিনিধি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *