বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, সামনে সেমিফাইনালের টিকিট, প্রতিপক্ষের স্কোরবোর্ডে ১৯৫—এই প্রেক্ষাপটে ইডেন গার্ডেন্সে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিলেন সঞ্জু স্যামসন। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি শুধু দলকে ৫ উইকেটের জয়ই উপহার দিলেন না, ভেঙে দিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ তাড়া করার নজির ১২ বছর পর ইতিহাস হয়ে গেল।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও পাওয়ার প্লেতে উইকেট তুলতে পারেনি ভারত। ব্রেন্ডন কিং অনুপস্থিত থাকায় রস্টন চেজ় হোপের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে সাবধানে ইনিংস গড়েন। ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান ওঠে। এই সময়ে অভিষেক শর্মার একটি সহজ ক্যাচ মিস বড় হয়ে দাঁড়ায়। চেজ় পরে ২৫ বলে ৪০ রান করেন।
শিমরন হেটমায়ার নামার পর রান তোলার গতি বাড়ে। তবে জসপ্রীত বুমরাহ ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ভারতকে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হেটমায়ারের বিরুদ্ধে তাঁর দাপট বজায় রেখে ১২ বলে ২৭ করা এই বাঁহাতিকে ফেরান। পরের ওভারেই চেজ়কেও আউট করেন বুমরাহ। মাঝের ওভারে হার্দিক পাণ্ড্য শারফেন রাদারফোর্ডকে ফেরান।
১৫ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান ছিল ৪ উইকেটে ১২৫। সেখান থেকে রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডারের জুটি ম্যাচের গতি পাল্টে দেয়। অর্শদীপ সিংহের এক ওভারে ২৪ রান ওঠে। পরের ওভারেও বাড়তি রান। শেষ তিন ওভারে ৫০ রান যোগ করে ক্যারিবিয়ানরা। ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় তারা। পাওয়েল ১৯ বলে ৩৪ ও হোল্ডার ২২ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি ভারতের। অভিষেক শর্মা ১১ বলে ১০ করে আউট হন। ঈশান কিশনও তিন নম্বরে নেমে ৬ বলে ১০ করে ফেরেন। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৫৩ রান তুললেও চাপ ছিল স্পষ্ট। সূর্যকুমার যাদব ১৬ বলে ১৮ করে আউট হলে দায়িত্ব আরও বাড়ে।
Changing gears 🚗
Sanju Samson and Tilak Varma with a big over and #TeamIndia need 75 runs in 42 deliveries 🙌
Updates ▶️ https://t.co/ur4pr8Bi3K#T20WorldCup | #MenInBlue | #INDvWI | @IamSanjuSamson | @TilakV9 pic.twitter.com/erqSMXQKZK
— BCCI (@BCCI) March 1, 2026
এই অবস্থায় এক প্রান্ত ধরে রেখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সঞ্জু। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। ২৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। কোনও অযথা ঝুঁকি নয়, পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণ। তাঁর সঙ্গে তিলক বর্মার জুটি গুরুত্বপূর্ণ। তিলক ১৫ বলে ২৭ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচ ভারতের নিয়ন্ত্রণে।
শেষ ৬ ওভারে দরকার ছিল ৬০ রান। হাতে ৭ উইকেট থাকলেও ম্যাচের গুরুত্বে চাপ ছিল। কিন্তু সঞ্জুর ব্যাটে তা প্রকাশ পায়নি। স্ট্রাইক রোটেশন, বেছে নেওয়া বড় শট এবং নিখুঁত টাইমিং—সব মিলিয়ে তিনি ইনিংসটিকে ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে নিয়ে যান।
শেষ পর্যন্ত ৪ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে—ভেঙে গেল বিরাট কোহলির ৮২ রানের নজির।
তবে সেমিফাইনালের আগে উদ্বেগও রয়ে গেল। স্পিনারদের ধারাবাহিকতা নেই, ফিল্ডিংয়ে গাফিলতি স্পষ্ট, অভিষেকের ফর্ম প্রশ্নের মুখে। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে এই দিকগুলো সামলাতে হবে গৌতম গম্ভীর ও সূর্যকুমারকে।
তবু ইডেনের রাত একটাই কথা মনে করিয়ে দিল—চাপের ম্যাচে একজন ব্যাটারের দৃঢ়তা পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রুদ্ধশ্বাস জয়, তবু সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড
