খবর অনলাইন ডেস্ক: টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার আট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে আশা জিইয়ে রাখল ভারত। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই প্রাধান্য দেখায় ভারত।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সুপার আটের প্রথম ম্যাচে হারের পর এই ম্যাচটি ভারতের জন্য ছিল ‘মাস্ট-উইন’। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা ও হার্দিক পাণ্ড্যের অর্ধশতকে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ভারত। জবাবে ব্রায়ান বেনেটের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস সত্ত্বেও জিম্বাবোয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৪ রানেই থেমে যায়।

রানে ফিরলেন অভিষেক শর্মা। ছবি BCCI ‘X’ তঘেকে নেওয়া।

সেমিফাইনালের সমীকরণ

এই জয়ের ফলে সুপার আট গ্রুপ ১-এ ভারতের শেষ ম্যাচটি কার্যত ‘ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনাল’-এ পরিণত হয়েছে। রবিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতলেই সেমিফাইনালে উঠবে ভারত। ওদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলে তারাই সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে।  

এর আগের দিন সাউথ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দুই দলই এখন দুই পয়েন্ট নিয়ে সমতায় রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শেষ ম্যাচে জিম্বাবোয়ের মুখোমুখি হবে।

ভারতের ঝোড়ো সূচনা থেকে রেকর্ড সংগ্রহ

ভারতের হয়ে ইনিংস শুরু করেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। স্যামসন শুরুটা আগ্রাসী করলেও ২৪ রান করে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন ব্লেসিং মুজারাবানির বলে। এর পর অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন জুটি বেঁধে রান তোলার গতি বজায় রাখেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ভারত তোলে ৮০/১ — চলতি আসরে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে সংগ্রহ।

ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট তুলে নিলেন অর্শদীপ সিংহ। ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।

অভিষেক ২৬ বলে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অর্ধশতক পূর্ণ করেন। যদিও এটি তার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ধীরতম ফিফটি, তবু টুর্নামেন্টে আগের চার ইনিংসে মাত্র ১৫ রান করা এই ওপেনারের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। তিনি শেষ পর্যন্ত ৫৫ রান করেন। ঈশান কিশন করেন ৩৮ রান।

অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ১৩ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে রানের গতি ১০-এর ওপরে ধরে রাখেন। শেষ দিকে হার্দিক পাণ্ড্য ২৩ বলে অপরাজিত ৫০ এবং তিলক বর্মা ১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করে দলের সংগ্রহ নিয়ে যান ২৫৬/৪-এ—যা টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।

এটি টুর্নামেন্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহও। সর্বোচ্চ ২৬০/৬ করেছিল শ্রীলঙ্কা, ২০০৭ সালের উদ্বোধনী আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে। সেই ২০০৭ আসরেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আগের সর্বোচ্চ ছিল ২১৮ রান।

ব্রায়ান বেনেটের (একেবারে বাঁ দিকে) লড়াই বৃথা গেল। মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি অধরা থেকে গেল। তাঁকে অভিনন্দন জসপ্রীত বুমরাহের। ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।

বেনেটের লড়াই, কিন্তু লক্ষ্য অধরা

ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে ভারতের বোলারদের শুরুতে উইকেট পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়। ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি উদ্বোধনী জুটিতে ৪৪ রান যোগ করেন। সপ্তম ওভারে অক্ষর পটেল মারুমানিকে (২০) আউট করে প্রথম সাফল্য এনে দেন।

বিশ্বের এক নম্বর টি২০ বোলার বরুণ চক্রবর্তী এর পর ডিয়ন মায়ার্সকে ফেরান। তবে বেনেট লড়াই চালিয়ে যান এবং জসপ্রীত বুমরাহকে ছক্কা মেরে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন।

জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ২১ বলে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও অর্শদীপ সিংহের শিকার হন। জিম্বাবোয়ে কখনও লক্ষ্য তাড়ায় বড়ো ঝুঁকি নেয়নি। শেষ দিকে অর্শদীপ আরও দুটি উইকেট তুলে নেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে জিম্বাবোয়ে থামে ১৮৪/৬-এ। ব্রায়ান বেনেট অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে। ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হলেন হার্দিক পাণ্ড্য।

ভারতের এই বড় জয় সেমিফাইনালের লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলেছে। এখন নজর রবিবারের কলকাতা ম্যাচে, যেখানে জয়ই একমাত্র লক্ষ্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *