ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে খুনের ষড়যন্ত্র করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে আমেরিকার এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে। শুধু তা-ই নয়, খামেনেইয়ের পাশাপাশি তাঁর পুত্র মোজতবাকেও পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে ট্রাম্প সরকার।
আরও পড়ুন:
মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানকে ‘সবক শেখাতে’ বদ্ধপরিকর মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি একাধিক পথ খোলা রাখতে চাইছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল খামেনেই এবং তাঁর পুত্রকে হত্যা করে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকে মোল্লাতন্ত্রকে উৎখাত করা। তবে এবিষযে চড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টার কথায়, “ট্রাম্প বিকল্প রাস্তাগুলি খোলা রাখেছেন। যে কোনও মুহূর্তেই তিনি ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।” তবে ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মুখ খলেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলিতে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টই একমাত্র জানেন তিনি কী করবেন।”
বিগত কয়েকমাস ধরেই দু’দেশের মধ্যে সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক অতীতে ইরানের কাছে সমুদ্রে রণতরী, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সেনা হোয়াইট হাউসকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত। আপাতত ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষাতেই তারা রয়েছে। মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিকের কথায়, “চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি গোটা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন।” বর্তমানে পরমাণু চুক্তি নিয়েও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি ইরান চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে দু’টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে আমেরিকা। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে বেরিয়ে মধ্য আটলান্টিকে পৌঁছেছে এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে গন্তব্যের দিকে। এই রণতরীর সঙ্গে রয়েছে ৩টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিল। এছাড়া বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন ও একাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল। এবার চলতি সপ্তাহেই সামরিক সংঘাতে জড়াবে কি না দু’দেশ সেটাই এখন দেখার।
সর্বশেষ খবর
