নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ২০১৯-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানিতে সম্মত হল সুপ্রিম কোর্ট। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনগুলি বিবেচনার পর বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগ্রহী শীর্ষ আদালত।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পর দেশ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রথমবার সিএএ-র বিরুদ্ধে আর্জির শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বিলটি আইনে পরিণত হয়।
কারা করেছেন আবেদন?
সিএএ-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠন মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি, কংগ্রেস নেতা দেবব্রত শইকিয়া, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, রিহাই মঞ্চ ও অসম অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন।
– বিজ্ঞাপন –
রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে কেরল প্রথম এই আইনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যায়।
সিএএ-তে কী বলা হয়েছে?
আইন অনুযায়ী, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি ও খ্রিস্টান শরণার্থীরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। তবে আইনটিতে মুসলিম শরণার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি—এই নিয়েই আপত্তি তুলেছেন মামলাকারীরা।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশে নির্যাতিত আহমদিয়া মুসলিম কিংবা মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের কথা আইনটিতে নেই। একইভাবে শ্রীলঙ্কায় নির্যাতিত তামিল হিন্দু ও খ্রিস্টানদের প্রসঙ্গও অনুল্লেখিত।
মামলাকারীদের যুক্তি
আবেদনকারীদের দাবি, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তাঁদের মতে, এই আইন জীবনযাপনের অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী সাংবিধানিক নীতিকে খর্ব করে।
কেন্দ্রের অবস্থান
২০২০ সালের মার্চে কেন্দ্রীয় সরকার হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল, সিএএ কোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না এবং সাংবিধানিক নৈতিকতার বিরুদ্ধেও নয়। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সিএএ কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করেছিল।
এবার নতুন করে শুনানিতে সম্মতি দেওয়ায় সিএএ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্যায় শুরু হতে চলেছে।
