নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর আঙুলে লাগানো অমোচনীয় কালি অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ কেউ দ্রুত দাগ তুলতে নানা উপায় খোঁজেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কালি স্বাভাবিকভাবে মুছে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ভোটের সময় ব্যবহৃত এই কালি সাধারণত সিলভার নাইট্রেট দিয়ে তৈরি। এটি ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে স্থায়ী দাগ তৈরি করে। ফলে সহজে উঠে যায় না। সাধারণত ত্বকে লাগা কালি তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে হালকা হয়ে আসে। তবে নখ বা কিউটিকলে লাগলে পুরোপুরি যেতে দুই থেকে চার সপ্তাহ, কখনো আরও বেশি সময়ও লাগতে পারে।

কেন সহজে ওঠে না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কালি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে ভোট দেওয়ার চিহ্ন কয়েক দিন স্পষ্ট থাকে। একাধিকবার ভোট দেওয়া ঠেকাতেই মূলত এই ব্যবস্থা। বিষয়টি তদারকি করে থাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

কী করলে দাগ হালকা হয়

পুরোপুরি তুলে ফেলা সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাসে কালি ধীরে ধীরে ফিকে হতে পারে-

নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাভাবিকভাবে ত্বকের পুরোনো স্তর ঝরে যেতে দেওয়া, হাত পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখার চেষ্টা করা

এতে কয়েক দিনের মধ্যেই দাগ হালকা হয়ে আসে।

কী করা ঠিক নয়
চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন-

ডিটারজেন্ট, ব্লিচ বা শক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করা যাবে না, নেলপলিশ রিমুভার বা অ্যাসিটোন দিয়ে ঘষাঘষি করা উচিত নয়, শক্ত ব্রাশ দিয়ে ঘষলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে

এ ধরনের চেষ্টা ত্বকে জ্বালা, ক্ষত বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিরাপদ উপায় কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, অমোচনীয় কালি মুছতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধৈর্য ধরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের পুরোনো স্তর ঝরে গেলে দাগ নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।

তাই দ্রুত কালি তুলতে ক্ষতিকর পদ্ধতির আশ্রয় না নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দাগ চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *