চাপ, প্রত্যাশা আর ফাইনালের উত্তেজনা— এই তিনের মাঝেই তৈরি হয় নায়ক। অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন বৈভব সূর্যবংশী। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের যুব দল।

প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৪১১/৯। জবাবে ইংল্যান্ড লড়াই করেও থামে ৩১১ রানে। সেলেব ফ্যালকনার শতরান করলেও ব্যবধান কমাতে পারেননি। ম্যাচের মোড় ঘুরে গিয়েছিল অনেক আগেই— বৈভবের ব্যাট থেকে।

ফাইনালের মঞ্চে বিধ্বংসী বৈভব

৮০ বলে ১৭৫ রান। ১৫টি চার, ১৫টি ছয়। অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম আগ্রাসী ইনিংস। শুরুটা শান্ত— প্রথম তিন বলে রান নেই। তারপরই ঝড়। অ্যালেক্স গ্রিনকে চার মেরে খাতা খোলা, নবম ওভারে ১৮ রান, ৩২ বলে অর্ধশতরান।

– বিজ্ঞাপন –

তারপর গতি বাড়ে আরও। ফারহান আহমেদের এক ওভারে তিন ছয় ও এক চার। ৫৫ বলে শতরান। রালফি আলবার্টের ওভারে ২৭ রান তুলে কার্যত ম্যাচ একতরফা করে দেয় ভারত। গ্রিন, ফারহান, আলবার্ট বা মর্গ্যান— কারও হাতেই লাগাম পড়েনি।

দ্বিশতরানের সম্ভাবনা জোরাল ছিল, তবু আউট হওয়ার পর মুখে হতাশা নয়, আত্মবিশ্বাস। পুরো মাঠ দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তরুণ ভারতীয়কে।

ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে প্রস্তুতি

টানা ছ’বার ফাইনালে ওঠা ভারতের অনূর্ধ্ব–১৯ দল। একসময় দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অভাবে তাল কাটছিল। পরে বোর্ডের উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলে প্রস্তুতি পায় এই দল। ফলে তৈরি হয়েছে ম্যাচ ফিটনেস ও দলগত বোঝাপড়া— যার প্রভাব পড়েছে পুরো টুর্নামেন্টে।

কোনও একজন ব্যর্থ হলে অন্যরা দায়িত্ব নিয়েছে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— সব বিভাগেই ছিল ধারাবাহিকতা।

যুব ভারতীয় ক্রিকেটের স্বর্ণসময়

গত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেটে জুনিয়র স্তরে সাফল্যের ধারা স্পষ্ট। মেয়েদের অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জয়, সিনিয়র স্তরে ট্রফি— তার সঙ্গে যুক্ত হল ছেলেদের এই বিশ্বজয়। ভবিষ্যতের মূল দলে উঠে আসার বার্তা দিয়ে রাখল নতুন প্রজন্ম।

ফাইনালের আলো অবশ্য একাই কেড়ে নিল বৈভব। বড় মঞ্চে চাপকে উপেক্ষা করে যে ভাবে খেলেছে, তাতে তাকে হিসাবের বাইরে রাখার সাহস ভবিষ্যতে কোনও দলেরই থাকবে না।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *