নয়াদিল্লি: ২০২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর মধ্যবিত্তের পকেটে মিশ্র প্রভাব পড়তে চলেছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ঘোষণায় একদিকে যেমন জীবনদায়ী ওষুধ, বিদেশি শিক্ষা এবং ভ্রমণের খরচ কমছে, অন্যদিকে শেয়ার বাজারে লেনদেন এবং কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টায় বড়সড় কোপ বসিয়েছে কেন্দ্র। উৎপাদন শিল্প, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই এবার শুল্কের তালিকায় রদবদল করা হয়েছে।

বাজেটের পর যা যা সস্তা হতে পারে:

  • স্বাস্থ্য ও ওষুধ: মারণরোগ ক্যান্সারের ওষুধ এবং বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ড্রাগের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক (BCD) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ওষুধের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে আসার সম্ভাবনা।
  • বিদেশ ভ্রমণ ও শিক্ষা: বিদেশের ট্যুর প্যাকেজের ওপর টিসিএস (TCS) ৫-২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে পড়াশোনার জন্য টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে টিডিএস (TDS) হার কমানোয় পড়ুয়াদের খরচ কমবে।
  • ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালি: মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আনা জিনিসের ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
  • পরিবেশবান্ধব জ্বালানি: সৌরবিদ্যুৎ তৈরির কাঁচামাল এবং পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের সরঞ্জামের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের খরচ কমার সম্ভাবনা।
  • মৎস্যজীবী ও শিল্প: ভারতীয় মৎস্যজীবীদের সংগৃহীত মাছ এবং জুতো তৈরির রপ্তানিযোগ্য কাঁচামালের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।

দাম বাড়ছে যে সব ক্ষেত্রে:

  • শেয়ার বাজার: শেয়ার বাজারে ফিউচার ও অপশনস (F&O) ট্রেডিং বা ডেরিভেটিভস লেনদেনের ওপর সিকিউরিটি ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে নিয়মিত ট্রেডারদের খরচ বাড়বে।
  • কর ফাঁকি ও জরিমানা: আয়ের তথ্য গোপন করলে বা ভুল তথ্য দিলে এবার থেকে ১০০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ না করলেও মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে করদাতাদের।

সামগ্রিকভাবে বাজেট ২০২৬ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে উৎসাহিত করলেও, ফটকা কারবার বা শেয়ার বাজারের কারবারিদের জন্য পকেটের চাপ বাড়াল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *