নয়াদিল্লি: ভারতের যুবসমাজের সামনে এক নতুন এবং অদৃশ্য শত্রু মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে— ডিজিটাল ও গেমিং আসক্তি। ২৯ জানুয়ারি সংসদে পেশ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা’য় (Economic Survey) এই বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমীক্ষায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের দ্রুত ডিজিটাইজেশন একদিকে যেমন ক্ষমতায়ন আনছে, অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন আসক্তি দেশের ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই বার্ষিক প্রতিবেদনে ডিজিটাল আসক্তিকে নিছক কোনো সমস্যা নয়, বরং একটি ‘অর্থনৈতিক প্রয়োজন’ হিসেবে দেখা হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই আসক্তি যুবপ্রজন্মের বৌদ্ধিক ও সামাজিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা অনেকটা ক্রমবর্ধমান স্থূলতা বা অপুষ্টির মতোই বিপজ্জনক। তবে প্রযুক্তিকে ‘অভিশাপ’ না দিয়ে এর ব্যবহারের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র।
এই সমস্যা মোকাবিলায় ভারতের তুরুপের তাস হলো ‘অনলাইন গেমিং (রেগুলেশন) আইন, ২০২৫’। এই যুগান্তকারী আইনের মাধ্যমে বাজি ধরা বা জুয়া জাতীয় অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিজ্ঞাপন ও লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে আনা হয়েছে কড়া নিয়ম। আসক্তি মোকাবিলায় নিমহ্যাঁন্স-এর (NIMHANS) ‘শাট’ (SHUT) ক্লিনিক এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন ‘টেল-মানস’-এর মতো পরিকাঠামোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে সমীক্ষায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ‘গেমিং ডিসঅর্ডার’ স্বীকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভারতও এবার কঠোর পথে হাঁটতে চাইছে। সমীক্ষা বলছে, চীন যেমন নাবালকদের গেম খেলার সময় বেঁধে দিয়েছে বা অস্ট্রেলিয়া যেমন ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে, ভারতও সেই পথেই সুস্থ ডিজিটাল সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। শীঘ্রই নিমহ্যাঁন্স-এর নেতৃত্বে দ্বিতীয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা শুরু হবে, যা এই সমস্যার গভীরতা মাপতে সাহায্য করবে।
