কলকাতা: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। ধ্বংসস্তূপ থেকে দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, গাফিলতির জেরে মৃত্যুর অভিযোগে ডেকরেটর্সের গুদাম মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারি ও তদন্ত: মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। বুধবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। ডেকরেটর্সের গুদাম লাগোয়া মোমো কোম্পানির গুদামটির মালিকদের বিরুদ্ধেও একই ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। যদিও গঙ্গাধর দাসের দাবি, আগুন লেগেছে মোমো কারখানা থেকে এবং তিনি নিজে সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছেন। পুলিশ ও দমকল এখন খতিয়ে দেখছে আগুনের উৎস ঠিক কোথায় ছিল।

পরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষা: আগুন এতটাই বিধ্বংসী ছিল যে উদ্ধার হওয়া দেহাংশ দেখে পরিচয় শনাক্ত করার উপায় নেই। এখনও পর্যন্ত ২০ জন নিখোঁজ বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করছেন তদন্তকারীরা।

উধাও অগ্নিনিরাপত্তা: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দমকলের ডিজি রণবীর কুমার জানিয়েছেন, ওই গুদামগুলোর অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত কোনও ছাড়পত্র ছিল না। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কীভাবে দিনের পর দিন এই কারখানাগুলি চলছিল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। জলাভূমি ভরাট করে এই নির্মাণ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নরেন্দ্রপুর থানা এবং দমকল— দুই তরফেই গাফিলতির জেরে মৃত্যুর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে গতি দেওয়া হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *