খবর অনলাইন ডেস্ক: প্রতি বছরের মতো এবারেও সাধারণতন্ত্র দিবসের আগের দিনে ২০২৬-এ পদ্মসম্মানপ্রাপকদের নাম প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এ বছর পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী, এই তিন বিভাগে মোট ১৩১ জনকে সম্মানিত করা হল। এঁদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের। তবে এ বছর পদ্মবিভূষণ ও পদ্মভূষণ প্রাপকদের তালিকায় এই বাংলার কেউ নেই।
পদ্মশ্রী প্রাপকদের মধ্যে প্রথমেই নাম করতে হয় বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চলচ্চিত্রজগতে দীর্ঘ ও বহুমুখী অবদানের জন্য সম্মানিত হলেন তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৩৫০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন টলিউডের এই দাপুটে নায়ক। বড়ো পর্দার পাশাপাশি ছোটো পর্দা ও ওয়েব সিরিজ়েও তাঁর অভিনয় সমান ভাবে প্রশংসিত।
আরও দশ পদ্মশ্রীপ্রাপক কারা
অশোককুমার হালদার শিক্ষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদ্মশ্রী পেলেন। মালদহের বাসিন্দা অশোককুমার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রেলের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। পরবর্তী কালে তিনি একজন বিশিষ্ট দলিত সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হল প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে। দক্ষিণ দিনাজপুরের এই নাট্যকার ও নির্দেশক ছ’দশকের বেশি সময় ধরে ৬০টিরও বেশি নাটক পরিচালনা করেছেন। শহরের মঞ্চ ছাড়িয়ে গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে নাট্যচর্চা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব। ২০২৫ সালের মার্চে ৮৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
পূর্ব বর্ধমানের জামদানি তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথকে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হল হস্তশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য। প্রায় চার দশক ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি ১০ হাজারেরও বেশি তাঁতশিল্পীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
সংগীতজগতে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন বিশিষ্ট তবলাবাদক কুমার বসু। বেনারস ঘরানার এই শিল্পী এর আগে সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
বীরভূমের কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হচ্ছেন। কাঁথাশিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি তিনি ২০ হাজারেরও বেশি মহিলাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করে তুলেছেন। এর আগে তিনি বঙ্গশ্রী, জাতীয় পুরস্কার ও ‘শিল্পগুরু’ সম্মান পেয়েছেন।
এ ছাড়াও পদ্মশ্রী পাচ্ছেন সন্তুরবাদক তরুণ ভট্টাচার্য, হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সরোজ মণ্ডল, সাঁওতালি ভাষার বিশিষ্ট সাহিত্যিক রবিলাল টুডু, রসায়নের অধ্যাপক ও গবেষক মহেন্দ্রনাথ রায় এবং দার্জিলিংয়ের শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী গম্ভীর সিংহ ইয়ানজোনে।
