ডাভোস: রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর চাপানো ২৫ শতাংশ শুল্ক (Tariff) কি এবার তুলে নেওয়া হবে? ডাভোসে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনই সম্ভাবনার কথা শোনালেন মার্কিন অর্থসচিব (US Treasury Secretary) স্কট বেসেন্ট। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের কড়া পদক্ষেপের ফলেই ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়েছে, তাই এবার শুল্ক প্রত্যাহারের একটি ‘পথ’ বা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিত পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, “রাশিয়ার তেল কেনার জন্য আমরা ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলাম। এর ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলি রুশ তেল কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এটাই আমাদের সাফল্য। শুল্ক এখনও বহাল আছে ঠিকই, তবে আমি মনে করি তা তুলে নেওয়ার একটি পথ খোলা রয়েছে।” বিষয়টিকে তিনি একটি বড় সাফল্য বা ‘চেক’ হিসেবেই দেখছেন।
ইউরোপকে কড়া আক্রমণ ভারতের ওপর শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত দিলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন বেসেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলি পরোক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকেই মদত দিচ্ছে। বেসেন্টের কথায়, “ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের শোধনাগারগুলিতে মাত্র ২-৩ শতাংশ রুশ তেল আসত। যুদ্ধের পর তা বেড়ে ১৭-১৯ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু চূড়ান্ত পরিহাস ও বোকামির বিষয় হলো, ভারতের শোধনাগার থেকে সেই তেল বা রিফাইনড প্রোডাক্ট কিনছে ইউরোপীয়রাই। অর্থাৎ, তারা নিজেদের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধকেই অর্থ জোগাচ্ছে।” ইইউ-ভারতের বাণিজ্য চুক্তির স্বার্থেই ইউরোপীয় শরিকরা ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাৎপর্যপূর্ণ সময়কাল বেসেন্টের এই মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আগামী ২৫ জানুয়ারি ভারতে আসছেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। তাঁরা ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ভারত-ইইউ শিখর সম্মেলনে যোগ দেবেন। ঠিক তার আগেই ইউরোপকে বিঁধে আমেরিকার এই বার্তা বিশেষ অর্থবহ।
প্রেক্ষাপট এর আগে ফক্স নিউজকেও বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণেই ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছে। যদিও ভারতের দাবি, তাদের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতকে ‘শুল্কের মহারাজা’ (Maharaja of tariffs) বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই আবহে মার্কিন অর্থসচিবের সুর নরম করা ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির হতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপে শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প
